স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে আশুলিয়ার নিশ্চিতপুর এলাকার নিউজ গার্মেন্টসের চতুর্থ ও পঞ্চম তলার শ্রমিকরা বেতন বৃদ্ধির দাবিতে কাজ বন্ধ করে দেন। দুপুরের খাবারের বিরতির পর কারখানাটির অন্যান্য শ্রমিকেরাও কর্মবিরতিতে যোগ দেন। ফলে কারখানাটির স্বাভাবিক উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হয়।
একই দাবিতে দুপুরের পর নিট এশিয়া কারখানার শ্রমিকরাও কাজ বন্ধ করে কারখানার ভেতরে অবস্থান নেন। এ ছাড়া নিউ এজ গার্মেন্টসের শ্রমিকেরাও দিনভর কর্মবিরতি পালন করেন। বেতন-মজুরি বাড়ানোর দাবিতে কয়েকটি কারখানায় একযোগে শ্রমিক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ায় শিল্পাঞ্চলজুড়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
দিনের কর্মবিরতি শেষে সন্ধ্যার দিকে বিক্ষোভকারী শ্রমিকদের একটি অংশ দলবদ্ধ হয়ে নরসিংহপুর এলাকার অনন্ত গার্মেন্টস লিমিটেডের সামনে জড়ো হন। এ সময় তারা ওই কারখানার শ্রমিকদেরও কাজ বন্ধ করে বাইরে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান। একপর্যায়ে সেখানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীদের একাংশ অনন্ত গার্মেন্টসের প্রধান ফটক লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এতে কারখানার ফটকে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। একই সময় সেখানে অগ্নিসংযোগও করা হয়। আকস্মিক এ ঘটনায় কারখানা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষ নিজস্ব পানির লাইন ব্যবহার করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে শিল্প পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দেন এবং বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর নিরাপত্তার স্বার্থে অনন্ত গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষ কারখানাটিতে ছুটি ঘোষণা করে।
শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নরসিংহপুর এলাকায় অনন্ত গার্মেন্টস লিমিটেডের সামনে শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও অগ্নিসংযোগের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
তিনি আরও জানান, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুটি কারখানার শ্রমিকেরা কর্মবিরতি পালন করেছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কারখানার আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় পোশাক কারখানার শ্রমিকদের বেতন-মজুরি নিয়ে অসন্তোষ নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। দেশের তৈরি পোশাক খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদনকেন্দ্র হওয়ায় এ অঞ্চলের কারখানাগুলোতে কর্মবিরতি বা সংঘাতের প্রভাব উৎপাদন ও সরবরাহ কার্যক্রমে পড়তে পারে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরির দাবি এবং কারখানার স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তবে শ্রমিকদের পক্ষ থেকে ঠিক কত টাকা বেতন বৃদ্ধির দাবি জানানো হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে শ্রমিকদের আলোচনার অগ্রগতি কিংবা দাবি পূরণে কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না, তা-ও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে শ্রমিক ও কারখানা কর্তৃপক্ষের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির বিষয়টি এখন গুরুত্বপূর্ণ।


