খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬
বাংলা গানের যুবরাজ হিসেবে পরিচিত জনপ্রিয় গায়ক আসিফ আকবর তার স্পষ্টবাদিতার জন্য দীর্ঘকাল ধরেই আলোচনার কেন্দ্রে থাকেন। সমসাময়িক বিষয় হোক কিংবা সহকর্মীদের কর্মকাণ্ড—সবকিছুতেই নিজের মতামত প্রকাশে তিনি কখনো দ্বিধাবোধ করেন না। সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে আসিফ আকবর বিনোদন জগতের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী তারকাকে নিয়ে নিজের মনের গভীরে থাকা কিছু প্রশ্ন ও কৌতূহল প্রকাশ করেছেন। তার এই মন্তব্যে উঠে এসেছে চিত্রনায়িকা পরীমনি, মেগাস্টার শাকিব খান এবং রকস্টার জেমসের নাম।
চিত্রনায়িকা পরীমনিকে নিয়ে আসিফ আকবর কিছুটা রসিকতা এবং উদ্বেগের সুরে কথা বলেছেন। আসিফের মতে, পরীমনি ব্যক্তিগত জীবনে কিছুটা খামখেয়ালি স্বভাবের। তিনি সরাসরি পরীমনিকে উদ্দেশ্য করে প্রশ্ন করতে চান যে, তিনি ঠিক কবে থিতু হবেন এবং দর্শকদের এই নাটকীয় জীবন থেকে মুক্তি দেবেন। আসিফ বলেন, “আমি তাকে সরাসরি জিজ্ঞেস করতে চাই—তুমি আমাদের মুক্তি দেবে কবে? তুমি একটা কিছু করো, এবার সেটেল ডাউন হও। এবং সেটা কীভাবে করবে, সেই পরিকল্পনাও আমাকে জানাও।” তবে পরীমনির ইতিবাচক দিক তুলে ধরে আসিফ জানান, যেকোনো পরিস্থিতিকে অত্যন্ত সহজভাবে গ্রহণ করার ক্ষমতা পরীর আছে, যা একজন শিল্পীর জন্য অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
দেশের শীর্ষ নায়ক শাকিব খানকে নিয়ে আসিফের প্রশ্নটি ছিল সম্পূর্ণ কারিগরি এবং পেশাদার। আসিফ মনে করেন, শাকিব খানের পর্দায় বলা সংলাপের কণ্ঠস্বর এবং গানের কণ্ঠস্বরের মধ্যে বিস্তর ফারাক থাকে। কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী এন্ড্রু কিশোর, খালিদ হাসান মিলু বা সৈয়দ আবদুল হাদীদের উদাহরণ টেনে আসিফ বলেন যে, আগে শাকিব খানের ঠোঁটে গানগুলো যেভাবে মানিয়ে যেত, বর্তমানে তরুণ প্রজন্মের গায়কদের কণ্ঠে সেই সামঞ্জস্যতা অনেকটা হারিয়ে গেছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, শাকিব খান এই বেমানান বিষয়টি কীভাবে উপভোগ করছেন? প্লেব্যাকের ব্যাকরণ মেনে গানের প্রতি আরও সচেতন হওয়া জরুরি বলে তিনি মনে করেন।
নিচে আসিফ আকবরের উত্থাপিত মূল প্রশ্নগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| তারকা | আসিফের মূল প্রশ্নের বিষয়বস্তু | প্রেক্ষাপট |
| পরীমনি | ব্যক্তিগত জীবনে থিতু হওয়া ও খামখেয়ালি পরিহার | জীবনধারা ও স্থিতিশীলতা |
| শাকিব খান | সংলাপ ও প্লেব্যাকের কণ্ঠস্বরের অসামঞ্জস্যতা | পেশাদারিত্ব ও প্লেব্যাকের ব্যাকরণ |
| জেমস | জাতীয় সংকটে নীরবতা পালন | সামাজিক দায়বদ্ধতা |
দেশের কিংবদন্তি ব্যান্ড তারকা জেমসকেও ছেড়ে কথা বলেননি আসিফ। জেমসের বিশাল ভক্ত অনুরাগী থাকলেও জাতীয় কোনো আন্দোলন বা শিল্পীদের সংকটে তাকে সক্রিয় দেখা যায় না—এমনটিই দাবি আসিফের। তিনি জানতে চান, কেন এত বড় একজন শিল্পী হওয়া সত্ত্বেও দেশের কঠিন সময়ে জেমস কোনো বক্তব্য রাখেন না কিংবা রাজপথে দেখা যায় না। জেমসের এই রহস্যময় নীরবতা আসিফের কাছে বড় একটি প্রশ্নবোধক চিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পরিশেষে বলা যায়, আসিফ আকবরের এই খোলামেলা আলোচনা শোবিজে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিলেও, তার গঠনমূলক সমালোচনা অনেক ক্ষেত্রে যৌক্তিক বলে মনে করছেন সাধারণ দর্শকরা। শিল্পীদের পারস্পরিক এই মিথস্ক্রিয়া আমাদের বিনোদন জগতকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।