খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 25শে ভাদ্র ১৪৩২ | ৯ই সেপ্টেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের জোরবাড়িয়া কালাকান্দা গ্রামের ঐতিহ্যবাহী ইচাইল বিল তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি একটি বিশেষ বটগাছের জন্য প্রসিদ্ধ। প্রায় পাঁচশ বছরের পুরোনো এই বটগাছটিকে ঘিরে রয়েছে নানা লোককথা, বিশ্বাস ও রহস্য।
বিলের ঠিক মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা এই বিশাল বটগাছ শত শত ঝুরি ও শিকড় দিয়ে এক বিশাল প্রাকৃতিক দুর্গ তৈরি করেছে। স্থানীয়দের কাছে এটি শুধু একটি গাছ নয়, বরং কালের সাক্ষী এবং লোকজ কাহিনি ও রহস্যময়তার প্রতীক।
এলাকার প্রবীণদের মতে, একসময় গাছটিকে ঘিরে এক ধরনের ভয় ও আতঙ্ক বিরাজ করত। দিনের বেলায়ও লোকজন এর আশেপাশে যেতে ভয় পেত। প্রচলিত ছিল যে এখানে নাকি ভয়ংকর জ্বিন-শয়তানের বসবাস। অনেকেই অদ্ভুত ও ভয়ংকর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন বলে দাবি করেন। এই গল্পগুলো আজও তরুণ প্রজন্মের কাছে কৌতূহলের বিষয়।
তবে সময়ের সাথে সাথে গাছটির গুরুত্ব ভিন্ন রূপ নিয়েছে। এখন অনেকেই এখানে মানত করতে আসেন। তাদের বিশ্বাস, গাছের নিচে প্রার্থনা করলে মনের আশা পূরণ হয়। এ কারণে কেউ কেউ গরু, ছাগল, হাঁস বা মুরগি উৎসর্গ করে। এভাবে স্থানটি এক ধরনের অলৌকিক তীর্থস্থানে রূপান্তরিত হয়েছে।
জানা গেছে, স্থানীয়দের উদ্যোগে গাছের পাশে একটি নলকূপ বসানো হয়েছে, যাতে দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানতকারীদের পানির কষ্ট না হয়। তবে এতকিছুর পরও দুঃখের বিষয় হলো, গাছটির সুরক্ষা ও সংরক্ষণে কোনো সরকারি উদ্যোগ নেই। ফলে ধীরে ধীরে এর চারপাশ অব্যবস্থাপনায় ভরে যাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা শের আলী বলেন, “আমরা ছোটবেলায় বটগাছের কাছে গরু চড়াতাম। তখন আমরা মানুষের হাড় পড়ে থাকতে দেখেছি।”
৬ নং ফুলবাড়িয়া সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন বাদল বলেন, “গাছটির বয়স সঠিকভাবে কেউ বলতে পারে না। আমাদের বাপ-দাদাদের মুখে শুনেছি, এখানে জ্বিন-শয়তান বাস করত।”
একই ইউনিয়নের আন্ধারিয়া পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম খান বলেন, “গাছটি বহু পুরোনো। এর বয়স আমরা শুধু পূর্বপুরুষদের মুখে শুনেছি, লিখিত কোনো তথ্য নেই।”
মানুষের বিশ্বাস, কাহিনি আর ইতিহাসের মিশেলে এই বটগাছ এখন একটি অনন্য সাংস্কৃতিক ও লোকজ ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। যদি যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তবে এই ঐতিহ্যবাহী প্রাকৃতিক সম্পদ একসময় অবহেলায় হারিয়ে যেতে পারে।
খবরওয়ালা/টিএসএন