খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় ভাষা, ইতিহাস ও জাতীয় চেতনা নিয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ (টুকু)। তিনি বলেছেন, বাংলা ভাষাকে ধারণ করতে হলে ভাষা ব্যবহারে শুদ্ধতা, সচেতনতা ও ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা জরুরি। বিদেশি স্লোগান ও শব্দচর্চার পরিবর্তে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় তরুণ প্রজন্মকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
শনিবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসনের আয়োজনে পৌর শহরের শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান প্রজন্মের মুখে ‘ইনকিলাব’সহ বিভিন্ন অ- বাংলা স্লোগান শুনে তিনি ব্যথিত হন। তাঁর ভাষায়, “বাংলা ভাষাকে যদি সত্যিকার অর্থে মায়ের ভাষা হিসেবে ধারণ করতে চাই, তাহলে ভাষা ব্যবহারে আমাদের সচেতন হতে হবে। এমন শব্দ ও স্লোগান, যেগুলোর সঙ্গে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির সরাসরি সম্পর্ক নেই, সেগুলোর ব্যবহার পরিহার করা প্রয়োজন।”
তিনি আরও বলেন, ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছিল সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত স্বাতন্ত্র্য রক্ষার সংগ্রাম। সেই ইতিহাস স্মরণ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন—আমরা কি আমাদের ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি যথেষ্ট যত্নবান? তাঁর মতে, যে জাতি তার ইতিহাস সম্পর্কে সচেতন নয়, সে জাতির পক্ষে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। ভাষা ও ইতিহাসচর্চার ঘাটতির কারণে জাতীয়তাবোধ দৃঢ়ভাবে বিকশিত হচ্ছে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সভায় ভাষা আন্দোলনের তাৎপর্য, রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের বৈশ্বিক স্বীকৃতি নিয়েও আলোচনা হয়। বক্তারা বলেন, ভাষা কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়; এটি জাতির আত্মপরিচয়, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ধারক। তাই ভাষার শুদ্ধ চর্চা ও ইতিহাসের যথাযথ অনুধাবন অপরিহার্য।
আলোচনা সভার সভাপতিত্ব করেন সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমানসহ প্রশাসন ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
অনুষ্ঠানে ভাষা শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং তাদের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়। বক্তারা তরুণ প্রজন্মকে বাংলা ভাষার শুদ্ধ ব্যবহার, সাহিত্যচর্চা এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্পর্কে গভীর জ্ঞানার্জনের আহ্বান জানান।
সচেতন মহলের মতে, ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষায় রাষ্ট্র, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও পরিবার—সবার সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা ও জাতীয় চেতনা জাগ্রত রাখতে এমন আলোচনা সভা ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।