ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম কালিমান্তান প্রদেশের সেকাদাউ অঞ্চলে একটি যাত্রীবাহী হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে সব আরোহীর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) সংঘটিত এই দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা অন্তত আটজন বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। দুর্ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় গভীর শোক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
কর্তৃপক্ষের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানায়, দুর্ঘটনাকবলিত হেলিকপ্টারটিতে মোট আটজন আরোহী ছিলেন। এর মধ্যে ছয়জন যাত্রী, একজন পাইলট এবং একজন সহ-পাইলট ছিলেন। প্রাথমিক তথ্যে জানা যায়, উড্ডয়নের কিছু সময় পরই আকাশপথে নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, হেলিকপ্টারটি মেলাউই রিজেন্সি এলাকা থেকে স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৩৪ মিনিটে উড্ডয়ন করে। নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই মাত্র এক ঘণ্টার কিছু বেশি সময় পর, সকাল ৮টা ৩৯ মিনিটে এর সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকেই শুরু হয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান।
দুর্ঘটনাস্থলটি অত্যন্ত দুর্গম বনাঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় উদ্ধার কার্যক্রমে বড় ধরনের বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। পাশাপাশি এলাকায় বিরূপ আবহাওয়া ও কম দৃশ্যমানতা উদ্ধারকর্মীদের কাজকে আরও জটিল করে তুলেছে। স্থানীয় পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও মৃতদেহ উদ্ধার ও শনাক্তকরণের কাজ ধীরগতিতে চলছে।
সেকাদাউ জেলার এক পুলিশ কর্মকর্তা স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জাকার্তা গ্লোবকে নিশ্চিত করেছেন যে, দুর্ঘটনায় আরোহী কেউই বেঁচে নেই। তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে আবহাওয়ার আকস্মিক পরিবর্তন বা প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, তবে চূড়ান্ত কারণ জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে যুক্ত করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞ দল হেলিকপ্টারের রক্ষণাবেক্ষণ নথি, উড্ডয়ন পরিকল্পনা এবং আবহাওয়ার তথ্য বিশ্লেষণ করছে।
নিচে দুর্ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো তুলে ধরা হলো—
| বিষয় |
তথ্য |
| দুর্ঘটনার স্থান |
সেকাদাউ অঞ্চল, পশ্চিম কালিমান্তান |
| উড্ডয়নের স্থান |
মেলাউই রিজেন্সি |
| উড্ডয়নের সময় |
সকাল ৭টা ৩৪ মিনিট |
| যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন |
সকাল ৮টা ৩৯ মিনিট |
| আরোহীর সংখ্যা |
৮ জন (৬ যাত্রী, ২ জন ক্রু) |
| হতাহতের অবস্থা |
সকল আরোহী নিহত |
| প্রধান প্রতিবন্ধকতা |
দুর্গম এলাকা ও খারাপ আবহাওয়া |
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাস্থল ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হবে বলে জানানো হয়েছে।