খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 12শে চৈত্র ১৪৩২ | ২৬ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ইরাকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতিকে লক্ষ্য করে একদিনে একাধিক সমন্বিত হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছে দেশটির একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী, যারা নিজেদের “ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স” হিসেবে পরিচয় দেয়। গোষ্ঠীটির দাবি অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় তারা ইরাকসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ওপর মোট ২৩টি পৃথক অভিযান পরিচালনা করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, এসব হামলায় কয়েক ডজন ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে, যেগুলোর মাধ্যমে নির্দিষ্ট সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়। যদিও স্বাধীনভাবে এসব হামলার সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি, তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইরাকে মার্কিন সেনা উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে।
অন্যদিকে, নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি বিবেচনায় ইরাকে অবস্থানরত নিজেদের নাগরিকদের দ্রুত দেশ ত্যাগের আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির United States দূতাবাস জানায়, ইরাকজুড়ে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো মার্কিন নাগরিক ও মার্কিন সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলা চালাচ্ছে।
এ কারণে বাগদাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস এবং এরবিলের কনস্যুলেট জেনারেলে অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নাগরিকদের নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় দ্রুত দেশ ছাড়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
দূতাবাসের সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়, ইরাকের আকাশসীমায় এখনও ক্ষেপণাস্ত্র, রকেট এবং ড্রোন হামলার ঝুঁকি বিদ্যমান। এই পরিস্থিতির কারণে আকাশপথে চলাচলও সীমিত বা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
ইরাকে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতি এবং বিদেশি সামরিক বাহিনীর অবস্থানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিশেষ করে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিও আরও জটিল হয়ে উঠছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনা এই অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। এর ফলে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
নিচে সাম্প্রতিক পরিস্থিতির একটি সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ দেওয়া হলো—
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| হামলার দাবি | একদিনে ২৩টি অভিযান |
| ব্যবহার করা অস্ত্র | ডজনখানেক ড্রোন |
| লক্ষ্যবস্তু | মার্কিন ঘাঁটি ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনা |
| যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ | নাগরিকদের দেশ ছাড়ার আহ্বান |
| ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা | বাগদাদ, এরবিলসহ বিভিন্ন অঞ্চল |
| নিরাপত্তা সতর্কতা | আকাশপথে ড্রোন/ক্ষেপণাস্ত্র ঝুঁকি |
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের ধারাবাহিক হামলা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলছে এবং তা শুধুমাত্র ইরাক নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
এদিকে, আঞ্চলিক উত্তেজনার এই প্রেক্ষাপটে Iran এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বিরোধও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। একই সঙ্গে Hormuz Straitসহ গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুটগুলো নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত সংবেদনশীল অবস্থায় রয়েছে, যেখানে যেকোনো নতুন সংঘর্ষ পুরো অঞ্চলে বড় ধরনের নিরাপত্তা সংকট ডেকে আনতে পারে।