খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬
ইরাকের রাজধানী বাগদাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে শনিবার রাতে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। এএফপির প্রতিবেদনে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। হামলায় দূতাবাসের একটি হেলিকপ্টার অবতরণস্থল এবং প্রাঙ্গণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবে এখন পর্যন্ত হতাহতের তথ্য নিশ্চিত করা হয়নি।
একজন মার্কিন কর্মকর্তা এএফপিকে বলেন, “একটি ড্রোন দূতাবাসের প্রাঙ্গণে আঘাত হেনেছে।” নিরাপত্তা বাহিনীর একটি সূত্রও হামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছে। বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা গেছে, এই হামলা ইরাকের রাজধানীতে ইরান-সমর্থিত দুই যোদ্ধার নিহত হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যে সংঘটিত হয়।
আল–জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার সময় দূতাবাস থেকে ধোঁয়া উঠে আসতে দেখা গেছে। এপি জানায়, দূতাবাসের হেলিপ্যাডে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে, যার ফলে প্রাঙ্গণের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বাগদাদের গ্রিন জোনে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসটি অত্যন্ত নিরাপত্তাবেষ্টিত এবং এর আগেও ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীর রকেট ও ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়ে এসেছে। শুক্রবারই দূতাবাস থেকে ইরাকের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে ‘লেভেল-৪’ সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। এতে বলা হয়েছিল, ইরান ও ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো অতীতে মার্কিন নাগরিক, স্বার্থ ও অবকাঠামোর উপর হামলা চালিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও একই ধরনের হামলার আশঙ্কা রয়েছে।
নিচের টেবিলে সাম্প্রতিক হামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরা হলো:
| তারিখ | হামলার ধরণ | লক্ষ্যবস্তু | ক্ষয়ক্ষতি/প্রভাব | মন্তব্য |
|---|---|---|---|---|
| ১৩ মার্চ ২০২৬ | ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র | মার্কিন দূতাবাস, হেলিপ্যাড | প্রাঙ্গণ ক্ষতিগ্রস্ত, ধোঁয়া দেখা গেছে | বাগদাদে হামলার আগে দুই ইরান-সমর্থিত যোদ্ধা নিহত |
| পূর্বের হামলা | রকেট/ড্রোন | মার্কিন দূতাবাস | প্রাঙ্গণ ও নিরাপত্তা অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত | গ্রিন জোনে নিরাপত্তা জোরদার |
এই হামলার কারণে আন্তর্জাতিক মহলে মার্কিন কূটনৈতিক ও সামরিক উপস্থিতি নিয়ে সতর্কতার পরিধি বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো রাজনৈতিক উত্তেজনার মুহূর্তে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়ে নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করার চেষ্টা করতে পারে।
বর্তমানে বাগদাদে মার্কিন দূতাবাস থেকে হামলার বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে নিরাপত্তা বৃদ্ধি ও সতর্কতার নির্দেশনা জারি রাখা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানো যায়।
এই ঘটনা ইরাকের স্থিতিশীলতা ও মার্কিন কূটনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।