খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 16শে মাঘ ১৪৩২ | ২৯ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ইরানের ইস্পাহান ও তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে আহত অনেক মানুষ নিরাপত্তা বাহিনীর ভয় থেকে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে ভয় পাচ্ছেন। তারা সরাসরি বাড়ি বাড়ি গোপনভাবে চিকিৎসা দেওয়া স্বেচ্ছাসেবক ও পরিচিত চিকিৎসকদের ওপর ভরসা করছেন।
ইস্পাহানের একজন বিক্ষোভকারী (ছদ্মনাম তারা) জানান, নিরাপত্তা বাহিনী তাঁদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ার পর তিনি ও তাঁর বন্ধু রক্তে ভেজা জামাকাপড় নিয়ে স্থানীয় এক দম্পতির বাড়িতে আশ্রয় নেন। পরে পরিচিত একজন চিকিৎসক তাদের ক্ষত পরিষ্কার করেন এবং এক সার্জন বাড়িতে গিয়ে শরীর থেকে কিছু বুলেটের ক্ষুদ্রাংশ বের করেন। চিকিৎসকরা সতর্ক করেছেন, “সব বুলেট বের করা সম্ভব নয়; কিছু শরীরের ভিতরে থেকে যাবে।”
তাদের ভয় স্বাভাবিক। হাসপাতালগুলোতে নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি তীব্র, রোগীর নথি পরীক্ষা করা হচ্ছে এবং আহতদের শনাক্ত করা হচ্ছে। এক তেহরান ভিত্তিক সার্জন (ছদ্মনাম: নিমা) বিবিসিকে জানান, ৮ জানুয়ারি তিনি রাস্তায় রক্তাক্ত তরুণদের দেখেন এবং পুলিশের তল্লাশির ভয়ে একজনকে গাড়ির ডিকিতে লুকিয়ে নিয়ে যান। তিনি জানান, ৯৬ ঘণ্টা ঘুম না নিয়ে, একটানা অস্ত্রোপচার করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) এবং ইরান সরকারের দেওয়া তথ্যের মধ্যে পার্থক্য লক্ষ্য করা গেছে।
| তথ্য উৎস | নিহত বিক্ষোভকারী | শিশু | সাধারণ পথচারী | নিরাপত্তা বাহিনী | মোট মৃত | মন্তব্য |
|---|---|---|---|---|---|---|
| এইচআরএএনএ | 5,925 | 112 | 50 | 214 | 6,301 | ১৭ হাজারের বেশি মৃত্যুর তথ্য যাচাই চলছে |
| ইরান সরকার | আনুমানিক ২,৮০০ | অজানা | অজানা | অজানা | ৩,১০০ | বড় অংশ নিরাপত্তা বাহিনী সদস্য |
এইচআরএএনএ’র তথ্যমতে, অন্তত ১১ হাজার বিক্ষোভকারী গুরুতর আহত হয়েছেন। তেহরান ও ইস্পাহানের হাসপাতালগুলোর একজন স্বাস্থ্যকর্মী জানান, চিকিৎসকরা রোগীর মেডিক্যাল রেকর্ডে আঘাতের প্রকৃত তথ্য উল্লেখ করছেন না, কারণ নিরাপত্তা বাহিনী নিয়মিত নথিপত্র নজরদারি করছে।
তেহরানের ফারাবি চক্ষু হাসপাতালের প্রধান চিকিৎসক ড. কাসেম ফাখরাই বলেন, ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত তারা জরুরি অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনীয় ৭০০ রোগীর চিকিৎসা করেছেন। ২০০ জনকে অন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তিনি জানান, আহতদের মধ্যে চোখ, হাত ও পায়ের গুরুতর জখমে অনেককে স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্বের মুখে পড়তে হয়েছে।
একটি ছোট শহরের রোগী সিনা (ছদ্মনাম) বিবিসিকে বলেন, হাসপাতাল যেন যুদ্ধক্ষেত্রের মতো, কম্বল বা চিকিৎসা সরঞ্জামও পর্যাপ্ত নেই। নিরাপত্তা বাহিনীর ভয় ও নিয়ন্ত্রণের কারণে রোগীরা চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছেন গোপনে, পরিচিত ডাক্তার ও স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে।
তবে ইরানি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, সরকারি হাসপাতালের ওপর মানুষের আস্থা রয়েছে এবং গত ছয় দিনে প্রায় তিন হাজার মানুষ চিকিৎসা নিয়েছেন। মুখপাত্র হোসেন শোকরি বলেন, “চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোতে আহতরা নিরপেক্ষভাবে সেবা পাচ্ছেন।”
নিরাপত্তার কারণে সকল নাম ও স্থান পরিবর্তন করা হয়েছে।