খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬
ইরানের চলতি বছরের সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সময় পুলিশের কয়েকজন সদস্যকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত তিনজনকে বৃহস্পতিবার ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। দেশটির বিচার বিভাগ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর ডিসেম্বরের শেষ দিকে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দ্রুত সারা দেশে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। বিশেষ করে ৮ ও ৯ জানুয়ারি এই আন্দোলন চূড়ান্ত আকার ধারণ করে।
ইরানের বিচার বিভাগের ওয়েবসাইট মিজান অনলাইনে জানানো হয়, “জানুয়ারির অস্থিরতায় হত্যাকাণ্ড এবং জায়নিস্ট শাসন ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে অপারেশন পরিচালনার অভিযোগে দোষী তিনজনকে আজ সকালে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে।” তারা জানিয়েছে, দোষীদের বিরুদ্ধে ‘মাহারেবেহ’ অর্থাৎ ‘সৃষ্টিকর্তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা’সহ মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার পর এই শাস্তি কার্যকর করা হয়েছে।
মিজান জানিয়েছে, এই তিনজন দুইজন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সদস্যকে হত্যা করেছে। ইরানি কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, বিক্ষোভ প্রথমে শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হলেও পরে বিদেশি প্ররোচনায় দাঙ্গায় রূপ নেয়, যেখানে হত্যাকাণ্ড, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ ঘটেছে।
তেহরান সরকার স্বীকার করেছে, এই অস্থিরতায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং সাধারণ নাগরিকসহ তিন হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) জানিয়েছে, নিহতের সংখ্যা সাত হাজারের বেশি, যাদের অধিকাংশই বিক্ষোভকারী। তারা আশঙ্কা করছে যে প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে।
নিম্নের টেবিলে এই অস্থিরতার মূল তথ্যগুলো সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয়বস্তু | তথ্য |
|---|---|
| বিক্ষোভ শুরু | ডিসেম্বর ২০২৫, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে |
| শীর্ষক সংঘর্ষ | ৮–৯ জানুয়ারি ২০২৬ |
| দোষী সাব্যস্ত | ৩ জন |
| শাস্তি | ফাঁসি (মাহারেবেহ ও পুলিশের হত্যার দায়ে) |
| সরকারি নিহতের সংখ্যা | ৩,০০০+ |
| মানবাধিকার সংস্থার অনুমান | ৭,০০০+ |
| নিহতদের ধরন | নিরাপত্তা বাহিনী ও বিক্ষোভকারী নাগরিকরা |
ইরানের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার পর্যবেক্ষকদের নজরে এসেছে। দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী ও বিচার বিভাগ বিক্ষোভকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করেছে, তবে অনেক আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক এ সিদ্ধান্তকে সমালোচনার চোখে দেখছেন।
এই ঘটনায় ইরানীয় সমাজে রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সরকারি পদক্ষেপ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।