খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর দাবি, হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার জবাবে দেশটির অন্তত ১৪০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে সমন্বিত হামলা চালানো হয়েছে। একই সময়ে হরমুজে আরও একটি জাহাজে হামলার দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি), যা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে উদ্বেগের মুখে ফেলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) শনিবার এক বিবৃতিতে জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সময় অনুযায়ী শনিবার রাতে এবং বাংলাদেশ সময় রোববার ভোরে ইরানের বিভিন্ন স্থানে নতুন করে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। গত এক সপ্তাহে এটি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় দফার সামরিক অভিযান।
সেন্টকমের ভাষ্য অনুযায়ী, সাইপ্রাসের পতাকাবাহী একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হরমুজ প্রণালিতে আইআরজিসির হামলার পরই এই অভিযানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, হামলায় স্থলভিত্তিক ও সমুদ্রভিত্তিক যুদ্ধবিমান, ড্রোন এবং নৌবাহিনীর প্ল্যাটফর্ম থেকে নির্ভুলভাবে লক্ষ্যভেদী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।
মার্কিন বাহিনীর দাবি, অভিযানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, নৌ-সামরিক অবকাঠামো, গোলাবারুদের গুদাম, সামরিক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক এবং উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্রসহ প্রায় ১৪০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে। ওয়াশিংটনের ভাষ্য, এসব স্থাপনা ইরানের সামরিক সক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হওয়ায় সেগুলোকেই অগ্রাধিকার দিয়ে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে তেহরান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে একটি জাহাজ অনুমোদিত নৌপথ ব্যবহার না করায় সেটিকে থামিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণাও দিয়েছে। দেশটির কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, এ ঘটনার জেরে যদি কোনো দেশ পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তবে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
পরবর্তী সময়ে আইআরজিসি আরও দাবি করে, হরমুজ প্রণালিতে দ্বিতীয় একটি জাহাজেও তারা হামলা চালিয়েছে এবং সেটিকে অচল করে দিয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার প্রতিক্রিয়ায় জর্ডান, কাতার ও ওমানসহ উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানোর দাবিও করেছে তারা। তবে এসব হামলার ক্ষয়ক্ষতি বা দাবিগুলোর বিষয়ে স্বাধীনভাবে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং অন্যান্য পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করে। ফলে এই নৌপথে সামরিক সংঘাত বা জাহাজে হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, জ্বালানি সরবরাহ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতির দিকে নিবিড় নজর রাখছে বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক মহল। নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে এর প্রভাব আরও গভীর হতে পারে বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা।