খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায় পানিতে ডুবে মোহাম্মদ আলী (৮০) নামে এক বীর মুক্তিযোদ্ধার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে উপজেলার রমনা ইউনিয়নের সরকারপাড়া গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তাঁর মৃত্যুতে স্থানীয় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরকারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী দুপুরের দিকে এলাকার একটি বাঁধ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। এ সময় অসাবধানতাবশত তিনি ভারসাম্য হারিয়ে বাঁধের নিচে জমে থাকা পানিতে পড়ে যান। ঘটনাটি দেখতে পেয়ে আশপাশের লোকজন দ্রুত ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন। তবে উদ্ধার করার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যায়।
পরিবার ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মোহাম্মদ আলী দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। বয়সজনিত অসুস্থতার কারণেও তিনি দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, হাঁটার সময় ভারসাম্য হারিয়েই তিনি পানিতে পড়ে যান। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।
ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ শুরু করে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসেবেই প্রাথমিকভাবে বিবেচনা করছে। এ ধরনের ঘটনায় প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
চিলমারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নয়ন কুমার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা করা হবে। পাশাপাশি ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মোহাম্মদ আলী একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে এমন একটি দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু স্থানীয় মানুষের কাছে গভীর বেদনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁর পরিচিতজনরা জানান, তিনি অত্যন্ত সাদাসিধে জীবনযাপন করতেন এবং এলাকার মানুষের সঙ্গে আন্তরিক সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন।
এ ধরনের দুর্ঘটনা বিশেষ করে প্রবীণ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সচেতনতার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। স্থানীয়দের মতে, বাঁধ ও জলাশয়ের আশপাশে চলাচলের সময় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করলে অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব। একই সঙ্গে প্রবীণ ও শারীরিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তিদের একা চলাফেরার পরিবর্তে পরিবারের সদস্য বা স্বজনদের সহায়তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তারা উল্লেখ করেছেন।