খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 17শে চৈত্র ১৪৩২ | ৩১ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ইরানে চলমান সামরিক হামলায় বেসামরিক অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র প্রকাশ পেয়েছে। দেশটির রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার ফলে আবাসিক এলাকা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং স্বাস্থ্যসেবা খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে প্রাণহানির সংখ্যাও উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ পর্যন্ত দেশটিতে ৯০ হাজার ৬৩টি আবাসিক ইউনিট ক্ষতিগ্রস্ত বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। পাশাপাশি ৩০৭টি স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা কেন্দ্র এবং ৭৬০টি স্কুল সরাসরি হামলার শিকার হয়েছে। এসব ক্ষতির ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং মানবিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, হামলাকারী পক্ষ দাবি করলেও যে তারা কেবল সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করছে, বাস্তবে তার প্রভাব প্রধানত বেসামরিক জনগোষ্ঠীর ওপরই পড়ছে। আবাসিক ভবন ধ্বংস হওয়ায় হাজার হাজার পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং অনেকেই আশ্রয়কেন্দ্রে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলমান হামলায় এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৭৬ জন নিহত হয়েছে এবং আহতের সংখ্যা ২৪ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। হাসপাতাল ও চিকিৎসা কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় চিকিৎসাসেবা প্রদানেও বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
শিক্ষা খাতেও ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে। শত শত স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বহু শিক্ষার্থী তাদের পড়াশোনা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অস্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, যার ফলে দীর্ঘমেয়াদে মানবসম্পদ উন্নয়নে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ক্ষয়ক্ষতির সারসংক্ষেপ নিচে দেওয়া হলো—
| ক্ষতির ধরন | সংখ্যা |
|---|---|
| ক্ষতিগ্রস্ত আবাসিক ইউনিট | ৯০,০৬৩টি |
| ক্ষতিগ্রস্ত স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা কেন্দ্র | ৩০৭টি |
| ক্ষতিগ্রস্ত স্কুল | ৭৬০টি |
| নিহত ব্যক্তি | ২,০৭৬ জন |
| আহত ব্যক্তি | ২৪,০০০-এর বেশি |
মানবাধিকার ও ত্রাণ সংস্থাগুলো বলছে, বেসামরিক স্থাপনায় এ ধরনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘনের ইঙ্গিত বহন করে। দ্রুত যুদ্ধবিরতি এবং ত্রাণ সহায়তা জোরদারের আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের জরুরি সহায়তা নিশ্চিত করা যায়।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে মানবিক সংকট ক্রমেই গভীরতর হচ্ছে। খাদ্য, চিকিৎসা ও আশ্রয়ের সংকটে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।