খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 20শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ৪ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
যুক্তরাষ্ট্রের সেনা বাহিনী ইরানে ব্যাপক সামরিক কার্যক্রম শুরু করেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার মঙ্গলবার জানিয়েছেন, এ অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ হাজারের বেশি সেনা, ২০০ যুদ্ধবিমান, দুটি বিমানবাহী রণতরী এবং কয়েকটি বোমারু বিমান অংশ নিচ্ছে। এ অভিযানকে তিনি “মধ্যপ্রাচ্যে কয়েক দশকের মধ্যে সর্ববৃহৎ সামরিক প্রস্তুতি” হিসেবে অভিহিত করেছেন।
অ্যাডমিরাল কুপার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র মূলত ইরানের এমন লক্ষ্যবস্তুকে ধ্বংস করার দিকে মনোযোগ দিয়েছে, যেগুলি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর হামলা হতে পারে। তিনি আরও জানান, ইরানি নৌবাহিনীকে সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে ইরানের সবচেয়ে কার্যকর সাবমেরিন।
তিনি বিশেষভাবে দাবি করেছেন, ইতিমধ্যেই ১৭টি ইরানি জাহাজ ধ্বংস করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের হামলা কেবল সমুদ্রসীমা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ নয়, বরং আকাশপথ, স্থলসীমা এবং সাইবারস্পেস পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে।
মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই প্রস্তুতি এবং হামলার ধারা চলমান থাকবে এবং ইরান থেকে আসা সম্ভাব্য হুমকি প্রতিহত করতে সব ধরণের সামরিক সক্ষমতা ব্যবহার করা হবে। তারা ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে অচল করতে বিভিন্ন সামরিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছে, যার মধ্যে রয়েছে রাডার ব্যবস্থার উপর হামলা, সামরিক অবকাঠামোর ধ্বংস এবং নৌ ও বিমান প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভেঙে ফেলা।
নিচের টেবিলে যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক অভিযানের প্রধান উপাদানসমূহ সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:
| সামরিক উপাদান | সংখ্যা/প্রকার | মন্তব্য |
|---|---|---|
| সেনা | ৫০,০০০+ | স্থল ও নৌবাহিনী উভয়ই |
| যুদ্ধবিমান | ২০০+ | ফাইটার ও বোমারু বিমান মিলিত |
| বিমানবাহী রণতরী | ২ | বহনক্ষমতা: যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার |
| বোমারু বিমান | কয়েকটি | স্ট্র্যাটেজিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসের জন্য |
| ধ্বংসকৃত ইরানি জাহাজ | ১৭ | সাবমেরিন ও যুদ্ধজাহাজ অন্তর্ভুক্ত |
| হামলার ক্ষেত্র | সমুদ্র, আকাশ, সাইবার | বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করে হামলা |
অ্যাডমিরাল কুপারের ভাষায়, “এ হলো যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের মধ্যে সবচেয়ে বড় সামরিক প্রস্তুতি, যা আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অত্যন্ত জরুরি।” সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপ বাড়াতে এবং মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা ভারসাম্য রক্ষা করতে নেয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক উদ্যোগের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেতে পারে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ইতিমধ্যেই এই সংঘাত পরিস্থিতি সম্পর্কে উদ্বিগ্ন, এবং দমনের প্রয়াসে কূটনৈতিক আলোচনাও ত্বরান্বিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।