খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশসহ মুসলিম বিশ্বের কাছে সমর্থন চেয়ে ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দিয়েছেন ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহীমি জাহানাবাদী। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, ইরান কোনো দেশের কাছে যুদ্ধকালীন রসদ বা ‘লজিস্টিক’ সহায়তা চাইছে না; বরং একটি মুসলিম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ আগ্রাসী শক্তির বিরুদ্ধে সরাসরি নিন্দা জানাবে—এটাই তেহরানের প্রত্যাশা।
সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রদূত জানান, গত শনিবার ইরানজুড়ে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং তার পরিবারের একাধিক সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। ইরানি রেড ক্রিসেন্টের তথ্যানুযায়ী, নিহতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে। এ হামলার জবাবে ইরানও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। বাংলাদেশের দুই দফার বিবৃতিতেও প্রথমবার ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রের নাম উল্লেখ না করায় এবং খামেনির মৃত্যুর প্রসঙ্গ এড়িয়ে যাওয়ায় নানা মহলে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
রাষ্ট্রদূত জাহানাবাদী বলেন, জাতিসংঘ ইতিমধ্যেই এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে, ওআইসি ও ন্যাম সদস্য হিসেবে ইরান আশা করে, বাংলাদেশ আগ্রাসী শক্তির বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিবাদ জানাবে। তিনি আরও জানান, বাংলাদেশে একমাত্র জামায়াতে ইসলামী’র আমির শফিকুর রহমান ছাড়া এখন পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক দল বা পক্ষ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে সমবেদনা প্রকাশ করেনি। তবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সংহতি ও সমাবেশের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
রাষ্ট্রদূত হামলার উদ্দেশ্য ও কৌশল নিয়ে বলেন, খামেনিকে হত্যার পেছনে কোনো গোয়েন্দা ব্যর্থতা ছিল না। এটি ছিল একটি ‘কাপুরুষোচিত’ আক্রমণ। শীর্ষ নেতা কোনো বিশেষ আশ্রয়কেন্দ্রে না থেকে স্বাভাবিকভাবে নিজের দপ্তরে কর্মরত ছিলেন, সেই সুযোগেই হামলা চালানো হয়েছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক হুমকির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, “নতি স্বীকারের চেয়ে লড়াই করে শাহাদাত বরণ আমাদের কাছে গৌরবের।”
জাহানাবাদী আঞ্চলিক নিরাপত্তার স্বার্থে প্রতিবেশী দেশগুলোকে তাদের ভূখণ্ড ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহার না করার আহ্বান জানান। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, আগ্রাসী শক্তি সহায়তা অব্যাহত রাখলে ইরান বাধ্যতামূলক প্রতিরোধ যুদ্ধ চালাবে। তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে থাকা সামরিক চুক্তি সরাসরি যুদ্ধকালীন প্রতিরক্ষা চুক্তি নয়। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, বাইরের হুমকির মুখে ইরানের জনগণ অভ্যন্তরীণ মতভেদের ঊর্ধ্বে উঠে সরকারের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| হামলার দিন | ২৮ ফেব্রুয়ারি |
| নিহত সংখ্যা | ১,০০০+ (রেড ক্রিসেন্ট) |
| ইরানের চাওয়া | যুদ্ধ নয়, মুসলিম বিশ্বের সমর্থন |
| বাংলাদেশে প্রত্যাশা | আগ্রাসী শক্তির বিরুদ্ধে সরাসরি নিন্দা |
| রাজনৈতিক সমর্থন | জামায়াতে ইসলামী ছাড়া অন্য কোনো দল এখনও সমর্থন জানানি |
| প্রতিরোধের নীতি | আগ্রাসন চললে বাধ্যতামূলক প্রতিরোধ যুদ্ধ |
| আন্তর্জাতিক সমর্থন | জাতিসংঘ নিন্দা, চীন ও রাশিয়ার সামরিক চুক্তি সীমিত |
রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, ইরান আগ্রাসী শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, এবং মুসলিম বিশ্বের সমর্থন ও সংহতি ছাড়া দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা কঠিন।