খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) রোববার ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে ‘সেজিল’ ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে আঘাত হানার দাবি করেছে। ইরানের আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সি এই খবর প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, এটি ইরানের পক্ষ থেকে প্রথমবারের মতো ব্যবহারকৃত কৌশলগত সলিড-ফুয়েল সেজিল ক্ষেপণাস্ত্র, যা গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য আগ্রাসনের প্রেক্ষাপটে লঞ্চ করা হয়েছিল।
আল–জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেজিল ক্ষেপণাস্ত্রের আনুমানিক পরিসীমা ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ কিলোমিটার। এই ক্ষেপণাস্ত্র শব্দের চেয়ে ১৩ গুণ দ্রুতগতিতে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে সক্ষম। এর উচ্চ গতির কারণে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যর্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।
দ্য ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট ম্যাগাজিনের তথ্য অনুযায়ী, এই ক্ষেপণাস্ত্র কেবল ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুকে নয়, বরং ভারত মহাসাগর ও ভূমধ্যসাগরের বিস্তৃত অঞ্চলের লক্ষ্যবস্তুকেও আঘাত করার ক্ষমতা রাখে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ব্যবহার ইরানের প্রতিরক্ষা ক্ষমতা ও কৌশলগত প্রভাবকে বিশ্বব্যাপী দৃঢ়ভাবে প্রমাণ করছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সেজিল ক্ষেপণাস্ত্রের কার্যকারিতা ও পরিসীমা বিবেচনায় এটি ইরানের কৌশলগত সামরিক সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ক্ষেপণাস্ত্রের এ ধরনের উচ্চগতির সক্ষমতা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করে, যার ফলে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হবার সম্ভাবনা অনেক বেশি।
নিম্নের টেবিলে সেজিল ক্ষেপণাস্ত্রের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:
| বৈশিষ্ট্য | বিবরণ |
|---|---|
| ক্ষেপণাস্ত্রের নাম | সেজিল |
| ধরণ | সলিড-ফুয়েল, কৌশলগত |
| আনুমানিক পরিসীমা | ২,০০০–২,৫০০ কিলোমিটার |
| গতি | শব্দের চেয়ে ১৩ গুণ দ্রুত |
| লক্ষ্যবস্তু অঞ্চল | ইসরায়েল, ভারত মহাসাগর, ভূমধ্যসাগর |
| প্রথম ব্যবহার | ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ |
আইআরজিসি জানিয়েছে, এই হামলার মাধ্যমে তারা নিজেদের প্রতিরক্ষা এবং আঞ্চলিক কৌশলগত প্রভাব প্রমাণ করতে চায়। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এমন ধরনের উচ্চগতির ক্ষেপণাস্ত্র উত্তেজনা বাড়াতে পারে এবং মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে সামরিক প্রতিযোগিতা আরও জটিল করে তুলতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন যে, এই ধরনের অস্ত্রের বিস্তার কেবল রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ বৃদ্ধি করে না, বরং প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা ও সামরিক প্রস্তুতির ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জও সৃষ্টি করে। তাই ইরানের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর কাড়ে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা প্রেক্ষাপটকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করতে পারে।
সংবাদ বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে ইরানের এই ধরনের উচ্চগতির ক্ষেপণাস্ত্রের প্রয়োগে আন্তর্জাতিক উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে এবং এটি কৌশলগত সামরিক ভারসাম্যে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে সক্ষম।