আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: 4শে আশ্বিন ১৪৩২ | ১৯ই সেপ্টেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
কাতারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল-খুলাইফি গত বুধবার নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রেসিডেন্ট তমুকো আকানের সঙ্গে একটি বৈঠক করেছেন। ইসরায়েলের নজিরবিহীন হামলার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকের পর আল-খুলাইফি এক্স-এ একটি পোস্টে লিখেছেন যে, দ্য হেগে তার সফরটি ছিল ‘আইনি পথ খতিয়ে দেখার জন্য গঠিত দলের কাজের অংশ’। তার মতে, ইসরায়েলের অবৈধ সশস্ত্র হামলার প্রতিক্রিয়ায় কাতার এই পদক্ষেপ নিচ্ছে।
এর আগে গত বছর আইসিসিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। গাজায় বেসামরিক নাগরিকদের সরাসরি নিশানা করা এবং দুর্ভিক্ষ সৃষ্টির মতো কৌশল ব্যবহারের অভিযোগে ওই মামলাটি করা হয়েছিল। গত নভেম্বরে আইসিসি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
এদিকে, উপসাগরীয় সহযোগিতা কাউন্সিলের (জিসিসি) ছয়টি সদস্য দেশ যৌথ প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দোহায় কাউন্সিলের বিশেষ অধিবেশনে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ৯ সেপ্টেম্বর দোহায় হামাস নেতাদের লক্ষ্য করে ইসরায়েলের হামলার প্রতিক্রিয়ায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সেদিন যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার সময় এই হামলা চালানো হয়। হামাস জানিয়েছে যে, তাদের কোনো শীর্ষ নেতা নিহত হননি, তবে পাঁচজন সদস্য এবং কাতারের একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা প্রাণ হারিয়েছেন।
এই সময়ে গাজা সিটিতেও ইসরায়েলের সর্বাত্মক হামলা শুরু হয়। বিমান হামলার পাশাপাশি স্থল অভিযান চালানো হয়। হামলার মুখে বিপুল সংখ্যক মানুষ দক্ষিণ দিকে চলে যেতে বাধ্য হন। অনেকেই হেঁটে, বিভিন্ন যানবাহনে কিংবা গাধায় টানা গাড়িতে করে শহর ছেড়েছেন।
ইসরায়েলের দাবি, সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ ফিলিস্তিনি গাজা সিটি ছেড়েছেন। স্থানীয় প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, ইসরায়েলি হামলার আগে শহরটিতে প্রায় ১০ লক্ষ মানুষের বসবাস ছিল, যাদের অধিকাংশই এর আগে একাধিকবার বাস্তুচ্যুত হয়ে সেখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন।
খবরওয়ালা/টিএসএন