খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
কক্সবাজারের উখিয়ার পাহাড়ী অঞ্চলে বুধবার ভোরে এক নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। পালংখালী ইউনিয়নের মোছারখোলা এলাকায় সেহেরির সময় ২৫ বছর বয়সী গৃহবধূ জাজিদা আক্তারকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। তিনি এলাকার নুরুল বশরের ছেলে মোঃ শফিকুল ইসলামের স্ত্রী ছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের সময় শফিকুল কর্মসংস্থানের কারণে বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন না। রোজা শুরু হওয়ার ২–৩ দিন আগে থেকে তিনি কাজের কথা বলে বান্দরবান যাচ্ছিলেন। শ্বশুর নুরুল বশরের বর্ণনা অনুযায়ী, ছেলে তার বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে স্ত্রীকে নিয়ে আলাদা থাকতেন। তার মা অসুস্থ থাকায় রোজা শুরু হওয়ার আগে থেকে সেহেরির দায়িত্ব জাজিদার উপরই নির্ভর করত। সেহেরির শেষ মুহূর্তে ডেকে না পাওয়ায় তিনি নিজে খোঁজ নিতে গিয়েছিলেন এবং অন্ধকার ঘরে আলো জ্বালিয়ে দেখতে পান, জাজিদা রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন।
নিহতের বাবা নুরুল ইসলাম জানান, তাদের মেয়ের সঙ্গে শফিকুলের সামাজিকভাবে বিবাহ হয়েছিল। বিবাহের কয়েক বছর না যেতেই স্বামীর সঙ্গে তার মেয়ের মধ্যে কলহ শুরু হয়। নুরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, শফিকুল এবং তার পরিবারের সদস্যরা নিয়মিতভাবে তার মেয়েকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করত। তিনি বিশ্বাস করেন, তার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনার রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করেছে। উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। তিনি জানান, ঘরের মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় গৃহবধূকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজনদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মোছারখোলা এলাকায় অরক্ষিত ভোরে এমন নৃশংস ঘটনা গ্রামে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
নিচের টেবিলে নিহতের এবং পরিবারের প্রাথমিক তথ্য সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| নাম | জাজিদা আক্তার |
| বয়স | ২৫ বছর |
| বসতি | পালংখালী ইউনিয়ন, মোছারখোলা এলাকা |
| স্বামী | মোঃ শফিকুল ইসলাম (দিনমজুর) |
| হত্যাকাণ্ডের সময় | বুধবার ভোর (সেহেরির সময়) |
| হত্যাকৌশল | ছুরিকাঘাত |
| মরদেহের প্রেরণ | কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল (ময়নাতদন্ত) |
| পুলিশি ব্যবস্থা | তদন্ত চলছে, সন্দেহভাজন শনাক্তের চেষ্টা |
স্থানীয় প্রশাসন এবং পুলিশ সম্প্রদায়কে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। এই হত্যাকাণ্ড গ্রামের সাধারণ মানুষকে গভীরভাবে শোকাহত করেছে এবং ভোরবেলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনার দাবি উত্থাপন করেছে।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড দেশের সামাজিক ও মানবিক মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং স্থানীয় সমাজে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।