খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 26শে আষাঢ় ১৪৩২ | ১০ই জুলাই ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
উচ্চ সুদহার, করের চাপ এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রভাবে দেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) কমছে। চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই থেকে এপ্রিল) বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে মাত্র ৯১ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৬ কোটি ডলার কম। অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, এ ধারা অব্যাহত থাকলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা তৈরি হবে। এজন্য ভবিষ্যতের জন্য বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের অর্থায়নের সুযোগ বাড়ানোর আহ্বান জানানো হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) দেশে এফডিআই এসেছিল ১২৭ কোটি ডলার। অথচ চলতি অর্থবছরের একই সময়ে তা কমে দাঁড়ায় ৯১ কোটিতে। এমনকি গত অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে যেখানে এফডিআই এসেছিল ৩৩ কোটি ডলার, সেখানে চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে এসেছে মাত্র ২১ কোটি ডলার।
অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, রাজনৈতিক অস্থিরতা, আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা নষ্ট করছে। এতে উৎপাদন কমছে, কর্মসংস্থান সৃষ্টির গতি মন্থর হচ্ছে, ফলে বেকারত্বও বাড়ছে।
বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন, ‘কেউ বলতে পারবেন যে অমুক চীনা একটি গার্মেন্টস করেছে গত ৮ মাসে? বা একটা স্পিনিং মিল করেছে, বা আমাদের সাথে পার্টনারশিপ করেছে? তা কি বেকুব যে আমার পার্টনার হবে, এই পরিস্থিতিতে। যেখানে গ্যাস নাই, বিদ্যুৎ নাই, প্রতিনিয়ত কস্ট অব ডুয়িং বিজনেস বেড়ে যাচ্ছে।’
পলিসি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান মাসরুর রিয়াজ বলেন, ‘পলিটিক্যাল আনসার্টেইনটি গত ফেব্রুয়ারি থেকে কিন্তু বাড়ছিল এই বছরের। ইলেকশন হবে নাকি হবে না, নাকি কবে হবে। এরপরেও এক্সচেঞ্জ রেটে স্ট্যাবিলিটি আছে। এটা আমি মনে করি একটা টার্ন অ্যারাউন্ড। আর ইনফ্লেশনের জায়গায় আমাদের এখনও কোনো ভালো সাফল্য নেই।’
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)–এর গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা, ব্যক্তি পর্যায়ে নিরাপত্তার ঘাটতিসহ বিভিন্ন কারণে যেটা হয়েছে যে ব্যবসায়ীরা এক ধরনের অনিশ্চয়তায় ছিলেন। এতে স্বাভাবিক যে ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড সেটি যেমন বিঘ্নিত হয়েছে, শুরু দিকে। যদিও পরবর্তীতে সেটি অনেকটাই স্থিতিশীল হয়েছে। কিন্তু নতুন বিনিয়োগ যেটা, সেটা দেশি বলি বা বিদেশি—দুই জায়গাতেই কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি।’
বিশ্লেষকদের মতে, দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা গেলে বিনিয়োগ পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও আগ্রহ দেখাবেন। এ জন্য নীতি সহায়ক পরিবেশ, কম সুদ ও করহার এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন অপরিহার্য বলে মনে করছেন তারা।
খবরওয়ালা/এন