খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১ জুন ২০২৬
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার পরদিন সকালে এক গৃহবধূর আগুনে পোড়া মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ সোমবার সকালে উপজেলার ফজিলপুর গ্রামের একটি সড়কের পাশ থেকে নিহতের মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহতের নাম নাসিমা আক্তার (৩৬)। তিনি রানীশংকৈল উপজেলার হোসেনগাঁও গ্রামের আবদুল্লাহর স্ত্রী এবং তিন সন্তানের জননী। প্রাথমিক আলামত বিশ্লেষণ করে পুলিশ ধারণা করছে, এটি একটি হত্যাকাণ্ড হতে পারে।
পুলিশ, স্থানীয় বাসিন্দা ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রোববার নাসিমা আক্তার তাঁর এক ছেলে ও এক মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে হরিপুর উপজেলার মহেন্দ্রগাঁও গ্রামে এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন। ওই দিন সন্ধ্যার দিকে তিনি একা ওই বাড়ি থেকে বের হন। এরপর আর তিনি ফিরে আসেননি এবং স্বজনদের সাথে তাঁর কোনো যোগাযোগ ছিল না।
আজ সোমবার সকাল আনুমানিক আটটার দিকে হরিপুর উপজেলার ফজিলপুর গ্রামে একটি সড়কের পাশে এক নারীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নিখোঁজের স্থান অর্থাৎ মহেন্দ্রগাঁও গ্রামের আত্মীয়ের বাড়ি থেকে ফজিলপুর গ্রামের এই ঘটনাস্থলের দূরত্ব প্রায় চার কিলোমিটার। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে স্বজনেরা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং মরদেহটি নিখোঁজ নাসিমা আক্তারের বলে শনাক্ত করেন। পরবর্তীতে দুপুরের দিকে হরিপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া শুরু করে।
নিহত গৃহবধূর পরিচয় এবং ঘটনার প্রাথমিক তথ্যের একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচে টেবিল আকারে উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
| নিহতের নাম | নাসিমা আক্তার (৩৬) |
| পরিবারের তথ্য | স্বামী: আবদুল্লাহ, সন্তান: ৩ জন (১ ছেলে ও ১ মেয়েসহ) |
| স্থায়ী ঠিকানা | হোসেনগাঁও গ্রাম, রানীশংকৈল উপজেলা, ঠাকুরগাঁও |
| নিখোঁজের স্থান | মহেন্দ্রগাঁও গ্রাম, হরিপুর উপজেলা (আত্মীয়ের বাড়ি) |
| মরদেহ উদ্ধারের স্থান | ফজিলপুর গ্রাম, হরিপুর উপজেলা (সড়কের পাশ) |
| উদ্ধারের সময় | সোমবার সকাল (দুপুরে মর্গে প্রেরণ) |
| প্রাথমিক সুরতহাল | মুখের এক পাশ ও পিঠের কিছু অংশ আগুনে পোড়া |
| আইনি পদক্ষেপ | মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে |
হরিপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক শরিফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান যে, উদ্ধারকৃত মরদেহের সুরতহালে মুখের এক পাশ এবং পিঠের কিছু অংশে আগুনে পোড়ার স্পষ্ট চিহ্ন পাওয়া গেছে। অপরাধীরা ঘটনার সত্যতা বা নিহতের পরিচয় গোপন করার উদ্দেশ্যে হত্যার পর মরদেহে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে থাকতে পারে বলে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা।
পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, আজ সোমবার দুপুরের দিকে মরদেহটি ময়নাতদন্তের উদ্দেশ্যে ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই মৃত্যুর সঠিক ও সুনির্দিষ্ট কারণ জানা সম্ভব হবে। একই সাথে নিহতের ওপর কোনো ধরনের যৌন নির্যাতন চালানো হয়েছিল কি না, তা-ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং অপরাধীদের চিহ্নিত করতে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।