ঢাকার উত্তরা এলাকায় অবস্থিত উত্তরা উত্তর ও উত্তরা সেন্টার মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে অবৈধ হকার ও ভাসমান দোকানপাটের বিরুদ্ধে বিশেষ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলা এ অভিযানে স্টেশন দুটির নিচে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা সম্পূর্ণভাবে অপসারণ করা হয়।
অভিযানটি পরিচালিত হয় সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সরকারের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ শাওগাতুল আলমের নির্দেশনায়। পুরো কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেন তিনজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। অভিযানের সময় স্টেশনের নিচে ফুটপাত ও সংলগ্ন এলাকায় থাকা সব ধরনের অস্থায়ী দোকান, ভ্রাম্যমাণ ব্যবসা এবং অবৈধ বসতি সরিয়ে দেওয়া হয়।
অভিযান চলাকালে সংশ্লিষ্ট হকারদের কঠোরভাবে সতর্ক করা হয় যেন ভবিষ্যতে তারা আর কোনোভাবে মেট্রোস্টেশনের নিচে অবৈধভাবে দোকান বসাতে না পারেন। একই সঙ্গে তাদের কাছ থেকে ভবিষ্যতে আইন মেনে চলার অঙ্গীকারও নেওয়া হয়।
এছাড়া স্টেশন এলাকার পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়েও বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়। আশপাশের স্থায়ী দোকানদারদের ময়লা-আবর্জনা নির্ধারিত স্থানে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়, যাতে মেট্রোরেল এলাকার পরিবেশ ও যাত্রী চলাচল নির্বিঘ্ন থাকে।
অভিযান শেষে উপস্থিত সবাই মেট্রোরেল স্টেশন এলাকার শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার বিষয়ে একমত পোষণ করেন। কর্তৃপক্ষ জানায়, যাত্রীদের নিরাপত্তা ও সেবার মান নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে।
অভিযানে অংশগ্রহণকারী সংস্থা ও দায়িত্বপ্রাপ্তরা
সংস্থা/বাহিনী
ভূমিকা
ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড
মূল অভিযান পরিচালনা ও সমন্বয়
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটবৃন্দ
আইনগত ব্যবস্থা ও নেতৃত্ব প্রদান
তুরাগ থানা পুলিশ
নিরাপত্তা ও সহায়তা
মেট্রোরেল পুলিশ
স্টেশন নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ
আনসার সদস্যরা
শৃঙ্খলা রক্ষা ও সহায়তা
মেট্রোরেল নিরাপত্তা কর্মী
সার্বিক নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ
ডিএমটিসিএল সূত্রে জানা যায়, অভিযানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শাহজাহান আলী, মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম ও নজরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি সংস্থাটির নিরাপত্তা বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক (অবসরপ্রাপ্ত) মেজর মোহাম্মদ জাকির সিদ্দিকীও অভিযানে অংশ নেন।
অভিযান শেষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মেট্রোরেল স্টেশন এলাকাকে সম্পূর্ণ হকারমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে। যাত্রী চলাচলে স্বাচ্ছন্দ্য এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য।