খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 11শে আশ্বিন ১৪৩২ | ২৬ই সেপ্টেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কুমিল্লা জেলার সড়ক ও গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও সংস্কারের জন্য ২ হাজার ৪০০ কোটি টাকার একটি বিশেষ প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এই প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার নিজ জেলা কুমিল্লার জন্য।
প্রকল্পে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে তাঁর নিজ উপজেলা মুরাদনগরে—৪৫৩ কোটি টাকা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখা হয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহর উপজেলা দেবীদ্বারে—৩৩৮ কোটি টাকা।
শুধু আসিফ মাহমুদই নন, মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আবদুর রশীদও একই পথে হেঁটেছেন। তাঁর জেলা সাতক্ষীরার জন্য নেওয়া হয়েছে ২ হাজার ১৯৮ কোটি টাকার বিশেষ প্রকল্প। এলজিইডির হিসাবে, কোনো জেলার জন্য এককভাবে এত বড় প্রকল্প এর আগে নেওয়া হয়নি।
তবে কুমিল্লা ও সাতক্ষীরার জন্য আলাদা প্রকল্প নেওয়া হলেও আরও অনেক জেলায় সড়কের অবস্থা এর চেয়ে খারাপ। যেমন কুড়িগ্রামে ৭০ শতাংশ উপজেলা সড়ক ‘পুওর ও ব্যাড’ অবস্থায় রয়েছে। অথচ সেখানে কোনো একক প্রকল্প নেই। কুড়িগ্রামের এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী ইউনুছ হোসেন বিশ্বাস জানিয়েছেন, গত অর্থবছরে তাঁদের ৮০ কোটি টাকার চাহিদার বিপরীতে বরাদ্দ মিলেছিল মাত্র ৪০ কোটি টাকা। ফলে অনেক দাবি পূরণ হয়নি।
এলজিইডি সূত্র বলছে, কুমিল্লার জন্য শুরুতে ২ হাজার ৯৯৫ কোটি এবং সাতক্ষীরার জন্য ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছিল। পরে সংশোধিত ব্যয় দাঁড়ায় যথাক্রমে ২ হাজার ৪০০ ও ২ হাজার ১৯৮ কোটি টাকা। কুমিল্লার প্রকল্পটি এখন একনেক অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। আর সাতক্ষীরার প্রকল্পটি পরিকল্পনা কমিশন ফেরত পাঠানোর পর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে রয়েছে।
স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ই-মেইল, খুদে বার্তা এবং দপ্তরে যোগাযোগ করেও তিনি সাড়া দেননি। তবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আবদুর রশীদ প্রথম আলোকে বলেছেন, সাতক্ষীরায় গত ৫২ বছরে বড় কোনো প্রকল্প নেওয়া হয়নি। এ জেলার মানুষ দীর্ঘদিন নিগ্রহের শিকার হয়েছে এবং যাতায়াতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। তাই উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। তবে প্রকল্প ব্যয় এত বেশি তা তিনি জানতেন না।
বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাবশালীদের জেলা প্রীতি দেশের সমান উন্নয়ন ব্যাহত করছে। নোয়াখালী, চুয়াডাঙ্গা ও কুড়িগ্রামের মতো জেলায় বেশি দুরবস্থা থাকা সত্ত্বেও সেসব এলাকায় বরাদ্দ কমছে, অথচ প্রভাবশালী ব্যক্তিদের জেলায় হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প আসছে।
খবরওয়ালা/এমএজেড