খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 19শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ৩ই আগস্ট ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. ফরিদ উদ্দীন খানের ফেসবুক স্টোরিতে হঠাৎ ভেসে ওঠে শিক্ষক নিয়োগে এক প্রার্থীর প্রবেশপত্র, যাতে সুপারিশ করেছেন জামায়াতের সাবেক এমপি মো. লতিফুর রহমান। যদিও প্রায় ১৫ মিনিট পরই স্টোরিটি ডিলিট করে দেন তিনি, তবে এর স্ক্রিনশট ইতোমধ্যে ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে, যা নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা।
শনিবার (২ আগস্ট) রাত ১২টার দিকে দেওয়া ওই স্টোরিতে দেখা যায়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রপ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগে প্রভাষক পদে নিয়োগ পরীক্ষার এক প্রবেশপত্রে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য লতিফুর রহমানের সুপারিশ রয়েছে। তিনি ১৯৮৬ ও ১৯৯১ সালে জামায়াত থেকে নির্বাচিত এমপি ছিলেন।
ঘটনা প্রসঙ্গে অধ্যাপক ফরিদ উদ্দীন খান বলেন, “স্টোরিতে ওই প্রবেশপত্র কীভাবে আপলোড হলো, বুঝতে পারিনি। আমার ছেলে মোবাইলে গেম খেলছিল, হয়তো অসাবধানতাবশত আপলোড হয়ে যায়।”
তিনি আরও বলেন, “প্রতিদিনই বিভিন্ন সূত্রে আবেদনকারীরা সিভি ও প্রবেশপত্র জমা দেন বা হোয়াটসঅ্যাপে পাঠান। কেউ সরাসরি দেখা করতে এসে সুপারিশ করে। ওই সাবেক এমপির সঙ্গে রাবির নির্বাচনের সময় পরিচয় হয়েছিল। কয়েকদিন আগে তিনি ফোন করে একজন প্রার্থীর কথা বলেন এবং প্রবেশপত্র পাঠান।”
ড. ফরিদ দাবি করেন, সুপারিশ থাকলেও তা নিয়োগের লিখিত বা মৌখিক পরীক্ষায় কোনো প্রভাব ফেলে না। “এই ধরনের সুপারিশ আসে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে—শিক্ষক, ছাত্র, বন্ধুবান্ধব, রাজনীতিকরাও থাকেন। তবে এগুলো প্রক্রিয়ায় কোনো ভূমিকা রাখে না,” বলেন তিনি।
এদিকে, ওই প্রবেশপত্রে সুপারিশকারীর সই সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “যেভাবে আমার কাছে এসেছে, আমি তেমনই পেয়েছি। সইটি ওই ব্যক্তির কি না, নিশ্চিত নই।”
অন্যদিকে, সুপারিশকারী জামায়াতের সাবেক এমপি লতিফুর রহমান বিষয়টি সম্পর্কে অবগত থাকলেও কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, “আমি অসুস্থ, এবং বিষয়টি জানি। তবে এ নিয়ে আমি কিছু বলতে চাই না।”
ঘটনা নিয়ে জানতে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ্ হাসান নকীবের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
খবরওয়ালা/টিএসএন