নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: রবিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
চলচ্চিত্র, নাটক ও বিজ্ঞাপনের দুনিয়ায় দ্রুত প্রবেশ করছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)। মাত্র কয়েক মিনিটেই একটি গল্পের প্লট, সংলাপ, চরিত্র ও দৃশ্য বিন্যাস তৈরি করতে সক্ষম এই প্রযুক্তি। ফলে প্রোডাকশন হাউজগুলোর সময় ও খরচ কমছে উল্লেখযোগ্যভাবে। তবে সমালোচকদের মতে, মানুষের সৃজনশীলতা ও আবেগকে এআই এখনো পুরোপুরি ধারণ করতে পারছে না। বিশেষজ্ঞদের পূর্বাভাস—ভবিষ্যতে এআই ও মানব লেখকের যৌথ প্রচেষ্টাতেই তৈরি হবে সবচেয়ে মানসম্মত স্ক্রিপ্ট।
যে যে পেশা সংকটে পড়তে পারে—
১. স্ক্রিপ্ট রাইটার ও সংলাপ লেখক
এআই প্লট ও সংলাপ লিখে দিতে পারায় অনেক লেখকের কাজ হ্রাস পেতে পারে। ছোট প্রোডাকশন হাউজগুলো সাশ্রয়ের জন্য এআই নির্ভর হতে পারে।
২. ভিডিও এডিটর ও গ্রাফিক্স ডিজাইনার
এআই চালিত ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার কয়েক মিনিটে সেই কাজ করছে, যা আগে একজন ভিডিও এডিটরের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাগত। বিজ্ঞাপন, শর্ট ভিডিও বা সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্ট তৈরির ক্ষেত্রে জুনিয়র ভিডিও এডিটর ও গ্রাফিক ডিজাইনাররাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে।
৩. ভয়েসওভার আর্টিস্ট
এআই ভয়েস জেনারেশন এখন এতটাই নিখুঁত হয়েছে যে আসল ও কৃত্রিম কণ্ঠস্বর আলাদা করা কঠিন হয়ে পড়ছে। বিজ্ঞাপন, ডকুমেন্টারি বা টিভি রিপোর্টের জন্য যেখানে আগে ভয়েসওভার আর্টিস্টদের প্রয়োজন ছিল, সেখানে সফটওয়্যারই এখন কম খরচে কাজটি করছে।
৪. ফটোগ্রাফার ও স্টক ইমেজ ক্রিয়েটর
এআই ইমেজ জেনারেটর বাস্তবের থেকেও বাস্তব ছবি তৈরি করছে। ফলে যারা স্টক ফটোগ্রাফি বা রুটিন ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট তৈরি করে আয় করতেন, তাদের বাজার দ্রুত সংকুচিত হচ্ছে।
৫. ক্যামেরাম্যান, কস্টিউম ডিজাইনার, সেট ডিজাইনার ও লোকেশন টিম
টেক্সট প্রম্পট দিয়েই এখন সিনেম্যাটিক ভিডিও তৈরি করছে এআই টুলস যেমন VEO। এতে ক্যামেরা, সেট, লোকেশন, লাইটিং টিম—সবাই চাপের মুখে পড়বেন, বিশেষ করে ছোট বাজেটের বিজ্ঞাপন ও কর্পোরেট ভিডিও নির্মাণে।
৬. আর্ট ডিরেক্টর ও মেকআপ আর্টিস্ট
ভার্চুয়াল সেট, ডিজিটাল মডেল ও এআই কস্টিউম সলিউশন আসায় অনেকক্ষেত্রে বাস্তব সেট তৈরি বা মেকআপের প্রয়োজনও কমে যাচ্ছে।
তাহলে উপায় কী?
ভিডিও এডিটর ও এআই ভিডিও নির্মাতা মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান—
“এআই যেমন ঝুঁকি তৈরি করছে, তেমনি সুযোগও এনে দিচ্ছে। যারা কেবল রুটিন কাজের ওপর নির্ভরশীল, তারা সংকটে থাকলেও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা, সৃজনশীল কনটেন্ট নির্মাণ, মানবিক গল্প বলা ও নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের দক্ষতার জায়গায় মানুষের বিকল্প এখনো নেই।”
তিনি আরও বলেন, মিডিয়া কর্মীদের এখনই উচিত নতুন দক্ষতা অর্জন করা, এআই সম্পর্কে সচেতন হওয়া এবং প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া। অন্যথায় এআই ঢেউ অনেকের জন্য আশীর্বাদ না হয়ে অভিশাপ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
খবরওয়ালা/টিএসএন