নিজস্ব প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ২১ মে ২০২৫
বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর নামে এখতিয়ার-বহির্ভূত সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে সংবাদকর্মী ও সংগঠনের নিজস্ব সদস্যদের তীব্র প্রশ্নের মুখে পড়েছেন অধ্যাপক বদিউর রহমান।
মঙ্গলবার (২০মে) বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের সদুত্তর দিতে ব্যর্থ হন এবং কোথাও কোথাও প্রশ্ন এড়িয়ে যান।
সংবাদ সম্মেলনে বদিউর রহমান দাবি করেন, আগামী ২০ জুন উদীচীর ‘অসমাপ্ত’ জাতীয় সম্মেলন সম্পন্ন করা হবে। অথচ গত ৬, ৭ ও ৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ২৩তম জাতীয় সম্মেলনের মধ্যেই সংগঠনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠিত হয়—যেখানে সভাপতি নির্বাচিত হন বদিউর রহমান নিজেই এবং সাধারণ সম্পাদক হন জামসেদ আনোয়ার তপন।
সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি একটি উপ-কমিটি হিসেবে মূল কমিটিকে সহযোগিতা করে থাকে। কেন্দ্রীয় কমিটিই সম্মেলন আহ্বানের একমাত্র এখতিয়ার রাখে। কিন্তু বদিউর রহমান নিজেকে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির চেয়ারম্যান পরিচয় দিয়ে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন, যা গঠনতন্ত্রের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে দাবি করেছেন অনেকেই।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত উদীচীর সহ-সাধারণ সম্পাদক রহমান মুফিজ বদিউর রহমানকে প্রশ্ন করেন, “একটি উপ-কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে আপনি কীভাবে পুরো সংগঠনের পক্ষে সম্মেলনের ঘোষণা দিতে পারেন? কমিটির অন্য সদস্যদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই এই সিদ্ধান্ত কীভাবে নিলেন?” তিনি আরও জানান, তিনি নিজেও ওই কমিটির সদস্য হলেও এ সংবাদ সম্মেলন সম্পর্কে কিছুই জানতেন না।
আরও কঠিন প্রশ্ন তুলে ধরেন উদীচীর সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য আরিফ নূর। তিনি বলেন, “আপনারা দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন, সংগঠনের রীতিনীতির বিষয়ে অভিজ্ঞ। কিন্তু কোনো বৈধ সাংগঠনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে প্রকাশ্যে এভাবে সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা কীভাবে করেন?”
প্রশ্নের জবাবে বদিউর রহমান শুধু বলেন, “উদীচীর ঐক্যের স্বার্থেই আমি এ উদ্যোগ নিয়েছি।” তবে এ বক্তব্যকে অস্পষ্ট এবং গঠনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার বাইরের বলে অভিহিত করেন সংগঠনের বর্তমান নেতৃত্ব।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন উদীচীর সাবেক সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম সিদ্দিক রানা। তিনি বলেন, “আমি বদিউর রহমানের সব সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নই। তবে আমি ঐক্যের পক্ষেই আছি। এই বিভাজন আমার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটায়।”
উল্লেখ্য, ফেব্রুয়ারির সম্মেলন শেষে মূল কমিটির বাইরে একটি পাল্টা কমিটিও ঘোষণা করা হয়, যেখানে সভাপতি হিসেবে আবারও বদিউর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অমিত রঞ্জন দে-কে ঘোষণা করা হয়। সেই কমিটিকে শপথ পাঠ করান এক সময়ের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ সেলিম। এরপর থেকেই বিভক্ত দুই অংশের মধ্যে উত্তেজনা চলে আসছিল। বদিউর রহমানের এই সংবাদ সম্মেলনকে অনেকেই সেই বিভাজনের অংশ হিসেবে দেখছেন।
এদিনের সংবাদ সম্মেলনে পাল্টা কমিটির ঘনিষ্ঠ ও বিতর্কিত কয়েকজন নেতাকর্মীও উপস্থিত ছিলেন, যাদের উপস্থিতি পুরো আয়োজনের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।