খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 1শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ১৬ই জুলাই ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম রাজস্ব আদায় করেছে। গত জুন মাসে রাজস্ব আহরণ ছিল প্রায় ৪৩ হাজার ৯২ কোটি টাকা, যা গত বছরের জুনের তুলনায় ৯ হাজার ৯৫৫ কোটি টাকা কম। গত ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জুনে রাজস্ব আদায় ছিল ৫৩ হাজার ৪৭ কোটি টাকা।
এনবিআরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাধারণত অর্থবছরের শেষ মাসে জুনে অন্যান্য মাসের তুলনায় বেশি রাজস্ব আদায় হয়, কারণ এ সময়ে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা আরও বেশি ব্যস্ত থাকেন। তবে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এনবিআর বিলুপ্তির প্রতিবাদে দেড় মাসের আন্দোলনের কারণে আমদানি-রপ্তানি ও অন্যান্য অর্থনৈতিক কার্যক্রম কিছুটা ব্যাহত হয়। এর ফলে রাজস্ব আদায় যথাসময়ে সম্পন্ন হয়নি, যার কারণে জুনের আদায় কমে গেছে।
গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল চার লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা। পরে সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় চার লাখ ৬৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে মোট তিন লাখ ৭০ হাজার ৮৭৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৯২ হাজার ৬২৬ কোটি টাকা বা ১৯ দশমিক ৯৮ শতাংশ কম আদায় হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছর রাজস্ব আয় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে পিছিয়ে থাকলেও ২০২৩-২৪ অর্থবছরের তুলনায় বেড়েছে ২ দশমিক ২৩ শতাংশ।
এনবিআরের সর্বশেষ প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আয়কর ও ভ্রমণ কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক লাখ ৭১ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা। কিন্তু আদায় হয়েছে এক লাখ ২৯ হাজার ৯০ কোটি টাকা। এ ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪২ হাজার ৪০৫ কোটি টাকা কম আদায় হয়েছে। একই লক্ষ্যমাত্রা ছিল স্থানীয় পর্যায়ে ভ্যাট আদায়ের ক্ষেত্রে। তবে আদায় হয়েছে এক লাখ ৪১ হাজার ৫৮৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ভ্যাট আদায় কম হয়েছে ২৯ হাজার ৯০৯ কোটি টাকা। আয়কর ও ভ্যাটের মধ্যে রাজস্ব আদায়ে কিছুটা এগিয়ে আছে ভ্যাট। এ ছাড়া কাস্টমস খাতে অর্থাৎ শুল্ক আদায় হয়েছে এক লাখ ১৯৮ কোটি টাকা। এ খাতে লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক কোটি ২০ লাখ ৫১০ কোটি টাকা। সেই হিসাবে আদায় কম হয়েছে ২০ হাজার ৩১২ কোটি টাকা।
প্রতিবেদনের তথ্যমতে, গত অর্থবছরে কর, শুল্ক ও ভ্যাট আদায় কম হলেও তার আগের অর্থবছরের চেয়ে এসব খাতে প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক ছিল। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের তুলনায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে শুল্ক, ভ্যাট ও আয়করে প্রবৃদ্ধি হয়েছে যথাক্রমে শূন্য দশমিক ৩৩ শতাংশ, ৩ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ ও ২ দশমিক ৮৭ শতাংশ।
এনবিআর সূত্র জানায়, গত অর্থবছরের আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের সময়টাতে রাজস্ব আহরণ বেশ পিছিয়ে যায়। অন্যদিকে চলতি বছরের ১২ মে এনবিআর ভেঙে রাজস্ব নীতি ও ব্যবস্থাপনা বিভাগ– দুই ভাগ করে অধ্যাদেশ জারি করা হয়। এটি বাতিলের দাবিতে সংস্থাটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আন্দোলন শুরু করেন, যা ২৯ মে পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। এর ফলে শেষ দিকে এসে রাজস্ব আহরণে বেশ ব্যাঘাত ঘটেছে।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনবিআরের শীর্ষ পর্যায়ের এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, সাধারণত জুন মাসে দৈনিক অন্তত দুই হাজার কোটি টাকা আদায় হয়। কিন্তু এবার আন্দোলনের কারণে তা সম্ভব হয়নি। প্রায় দেড় মাসের আন্দোলনে অর্থনৈতিক কার্যক্রম অনেকটা স্থবির হয়ে পড়ে। এ কারণে রাজস্ব আদায় কম হয়েছে। তবে চূড়ান্ত হিসাব আসা পর্যন্ত আরও কিছু আয় বাড়তে পারে বলে মনে করেন তিনি।
খবরওয়ালা/আরডি