খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৫
মাদারীপুরে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতা মেরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে অবৈধ বালু উত্তোলন, নারীদের কুপ্রস্তাব, মামলা বাণিজ্য ও পুলিশ দিয়ে হয়রানিসহ নানা অভিযোগ উঠেছে।
সম্প্রতি তার ব্যক্তিগত কিছু ছবি ও অডিও রেকর্ড সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
এর প্রেক্ষিতে জেলা এনসিপি শুক্রবার বিকেলে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা হলেন– সৈয়দ রাহাত হোসেন (ডাসার উপজেলা), সেলিম মোল্লাহ (শিবচর উপজেলা) ও বিপ্লব কাজী (মাদারীপুর সদর)। এনসিপির মাদারীপুর প্রধান সমন্বয়ক শহিদুল ইসলাম হাওলাদার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, মাসখানেক আগে একজন নারী স্থানীয় প্রশাসন ও সেনাবাহিনীতে মেরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানান। এরপর থেকে গত ৪–৫ মাস ধরে তিনি ওই নারীর প্রতি উত্ত্যক্তি চালিয়েছেন। একই সময়ে আরও একজন নারীর সঙ্গে মেরাজুলের ব্যক্তিগত কিছু ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার শংকরদী গ্রামের ফার্নিচার মিস্ত্রি সিরাজ ব্যাপারীর ছেলে মেরাজুল ইসলাম। এক সময় কিন্ডারগার্টেন স্কুলে শিক্ষকতা ও প্রাইভেট পড়িয়ে সংসার চালাতেন। তবে স্কুলের টাকা আত্মসাৎ ও নারীদের কুপ্রস্তাব দেওয়াসহ অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে একাধিক স্কুলের চাকরি হারান।
অভিযোগ রয়েছে, তিনি নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করেন, বাধা দিলে হামলা বা মিথ্যা মামলায় ফাঁসান এবং স্থানীয়দের হুমকি দেন। এছাড়া জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা দাবি ও হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
মেরাজুল ইসলাম জানান, “আমার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ সত্য নয়। বালু ভরাটের কিছু কাজ করার কথা স্বীকার করি। তবে নারীসংক্রান্ত বিষয় ও স্কুলের টাকা আত্মসাতের বিষয়ে আমি নির্দোষ।”
তদন্ত কমিটির সদস্য বিপ্লব কাজী জানিয়েছেন, “যথাসময়ে তদন্ত সম্পন্ন করে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।” জেলা এনসিপি প্রধান সমন্বয়ক শহিদুল ইসলাম হাওলাদার বলেন, “দোষী প্রমাণিত হলে মেরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
খবরওয়ালা/আশ