খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 3শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ১৮ই জুলাই ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে রেকর্ডসংখ্যক উদ্ভট ভুল ধরা পড়েছে, যা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক বিভ্রান্তি এবং ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, এক বিষয়ে পরীক্ষা দিয়ে অন্য বিষয়ে ফেল, ব্যবহারিক নম্বর যোগ না হওয়া, বা নম্বর মূল্যায়নের ত্রুটির কারণে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ভুল ফল পেয়েছে।
ঠাকুরগাঁও টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ২৫ শিক্ষার্থী শুধু গণিত বিষয়ে পরীক্ষা দিলেও ফলাফলে তিন বিষয়ে ফেল দেখানো হয়েছে।
নড়াইলের লোহাগড়ায়, এক শিক্ষার্থী বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়ে পাশ করলেও ফলাফলে কৃষি বিষয়ে ফেল দেখানো হয়েছে, যদিও সে এ বিষয়ে পরীক্ষাই দেয়নি।
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে, ধর্ম বিষয়ে পরীক্ষায় পাশ করেও কৃষি বিষয়ে ফেল দেখানো হয়েছে এক শিক্ষার্থীর ফলাফলে।
যশোরের পুলেরহাট মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বিজ্ঞান বিভাগের ৪৮ শিক্ষার্থী রসায়ন বিষয়ে অকৃতকার্য হয়। পরে জানা যায়, ব্যবহারিক নম্বর পাঠানো হয়নি। ফল সংশোধনের পর সবাই উত্তীর্ণ হয়।
বগুড়া জিলা স্কুল কেন্দ্র থেকে ক্যারিয়ার শিক্ষা বিষয়ের ব্যবহারিক নম্বর ৫০-এর জায়গায় ২৫ নম্বর ভিত্তিতে মূল্যায়ন করে পাঠানো হয়। এতে বহু শিক্ষার্থী ফেল করে। রাজশাহী বোর্ড ফল সংশোধনের নির্দেশ দেয়।
চাঁদপুরের মজিদিয়া আলিয়া মাদ্রাসার ভোকেশনাল শাখার ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাটাচমেন্ট ট্রেইনিং’ বিষয়ের ব্যবহারিক নম্বর নির্ধারিত সময়ে না পাঠানোয় ২৫ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে।
ফলাফলে দেখা গেছে, অনেক শিক্ষার্থী একটি বিষয়ে এ+ পেয়েছে, কিন্তু অন্য একটি বিষয়ে হঠাৎ ফেল দেখানো হয়েছে। কেউ কেউ পুরো মার্কশিটে এ প্লাস পেয়েও একটি বিষয়ে ফেল হিসেবে ফলাফল পেয়েছে, যা স্বাভাবিক নয়।
এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ফেল করেছে ৬ লাখ ৬৬০ জন শিক্ষার্থী—যা অতীতের তুলনায় অস্বাভাবিক। সাধারণত ৩–৪ লাখ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়। এই বড় পার্থক্যের পেছনে ফলাফলের গলদকেই দায়ী করছেন অনেক অভিভাবক ও শিক্ষার্থী।
যশোর, রাজশাহী, কুমিল্লা, মাদ্রাসা বোর্ডসহ একাধিক বোর্ডে এই ধরনের ভুল সামনে আসায় প্রশ্ন উঠেছে শিক্ষা বোর্ডগুলোর দক্ষতা ও তদারকি নিয়ে।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার বলেন, “ঢাকা বোর্ডে এমন ঘটনা ঘটেনি। তবে অন্য বোর্ডগুলোকে আমরা টেকনিক্যাল সহায়তা দিচ্ছি।” তিনি আরও বলেন, “বোর্ডগুলোর আরও যত্নবান হওয়া দরকার, যাতে ভবিষ্যতে এমন ভুল না হয়।”
শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি আস্থা টিকিয়ে রাখতে এসব ভুল দ্রুত সংশোধন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন অভিভাবক ও সচেতন মহল।
খবরওয়ালা/টিএস