খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫
ঢাকা–৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদের অবস্থান নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে এখনও সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই।
পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অপরাধ ও অপস) খন্দকার রফিকুল ইসলাম রোববার বিকেলে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ সম্মেলনে জানান, “ফয়সাল করিম বাংলাদেশের সীমান্ত পার হয়ে গেছেন কি না, নাকি দেশে আছেন, এ বিষয়ে নির্ভুল তথ্য আমাদের কাছে নেই। তবে তদন্তকারী কর্মকর্তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছেন এবং আসামি সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।”
আজ বিকেল সাড়ে পাঁচটায় অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২ এবং দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি জানাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক রফিকুল ইসলাম, ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) শফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম, বিজিবি ময়মনসিংহ সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মো. মোস্তাফিজুর রহমান এবং র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, “ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম কোথায়, সে বিষয়ে আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। বিভিন্ন জায়গা থেকে নানা ধরনের তথ্য আসছে। তবে তিনি দেশে আছেন নাকি দেশের বাইরে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট থাকতে পারে।”
ডিবি সূত্র জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফয়সাল করিমের ছবি দিয়ে ছড়িয়ে পড়া খবর অনুসারে তিনি পাশের দেশে চলে গেছেন। তবে ছবির সত্যতা এখনও যাচাই করা হয়নি। পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি রফিকুল ইসলাম বলেন, “গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। যারা মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বিজিবি ময়মনসিংহ সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “ফয়সাল করিমের সঙ্গে যুক্ত সন্দেহভাজনদের মধ্যে মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত একজনের নাম ফিলিপ। তাঁকে ধরার জন্য সর্বশক্তি প্রয়োগ করা হচ্ছে। আমরা বিভিন্ন গোয়েন্দা তৎপরতা চালাচ্ছি এবং সব ধরনের টুলস ব্যবহার করছি।”
জুলাই মাসের গণ–অভ্যুত্থানের মুখ ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি ১২ ডিসেম্বর মতিঝিল এলাকায় নির্বাচনী প্রচার চালিয়ে ফেরার পথে পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট সড়কে মোটরসাইকেল থেকে দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত হন। ছয় দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে মারা যান। এ হত্যাকাণ্ডের মূল সন্দেহভাজন হিসেবে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ফয়সাল করিম মাসুদকে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এ পর্যন্ত ফয়সাল করিমের মা–বাবা, স্ত্রী, শ্যালকসহ মোট ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও প্রধান আসামি সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলেছে, তারা সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে এবং রাষ্ট্র ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে তদন্ত সম্পন্ন করবে।
টেবিল: মামলা ও তদন্ত সংক্ষিপ্ত তথ্য
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| প্রধান আসামি | ফয়সাল করিম মাসুদ |
| আসামির অবস্থান | অজানা (দেশ/বিপর্যয়পূর্ণ সীমান্ত?) |
| গ্রেপ্তারকৃত | মা, বাবা, স্ত্রী, শ্যালকসহ ১০ জন |
| তদন্তকারী | পুলিশ, র্যাব, ডিবি, বিজিবি |
| সন্দেহভাজন মানবপাচারী | ফিলিপ |
| হত্যাকাণ্ডের তারিখ | ১২ ডিসেম্বর, মতিঝিল |
| নিহত | ওসমান বিন হাদি, ১৮ ডিসেম্বর, সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় |