খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৫
রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে লাগা আগুন ফায়ার সার্ভিসের ১৯টি ইউনিটের দীর্ঘ প্রচেষ্টায় পাঁচ ঘণ্টার বেশি সময় পর নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এতে বস্তির প্রায় ১৫০০ ঘর-বাড়ি পুড়ে গেছে। এখন পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের কাছে কোনো হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি।
মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) রাতে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেনেন্স) লে. কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।
তিনি জানান, বস্তির বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে আনুমানিক ১৫০০ ঘর-বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্তে সঠিক সংখ্যা জানা যাবে।
তিনি আরও বলেন, আগুন লাগার প্রায় ৩৫ মিনিট পর তিনটি স্টেশনের ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়, কারণ পথে যানজট ছিল। এরপর আরও ইউনিট এলেও সরু রাস্তায় বড় গাড়িগুলো ঢুকতে পারেনি। সীমাবদ্ধতার মধ্যেও ফায়ার ফাইটাররা কাজ চালিয়ে গেছে। ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই আগুন ডেভেলপ স্টেজে পৌঁছে যায়, ফলে নিয়ন্ত্রণে আনতে সময় লেগেছে।
লে. কর্নেল তাজুল ইসলাম বলেন, আগুনের উৎসে পৌঁছাতেই তাদের বেগ পেতে হয়েছে। ফায়ার ফাইটাররা অক্লান্ত পরিশ্রম করে আগুন ছড়িয়ে পড়া রোধে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়েছে।
তিনি জানান, যানজটের কারণে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে দেরি হয়েছে। বিকেলবেলা যানজট বেশি থাকায় তিন-চারটি স্টেশন থেকে ইউনিট পাঠানো হয়। তবে এসে দেখা যায়, গাড়িগুলো সরু রাস্তায় ঢুকতে পারছে না, তাই দূর থেকে পাইপ টেনে কাজ করতে হয়েছে।
আগুনের উৎস সম্পর্কে তিনি বলেন, এলোমেলোভাবে বিদ্যুতের তার এবং প্রতিটি ঘরে গ্যাস সিলিন্ডার দেখা গেছে। তদন্ত ছাড়া আগুনের প্রকৃত উৎস নিশ্চিত করা যাবে না।
তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, যদিও কেউ সামান্য আহত হয়ে থাকতে পারে, পরে জানা যাবে।
ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে তিনি জানান, আর্থিক ক্ষতির হিসাবসহ সব তথ্য তদন্তে জানা যাবে।
প্রতি বছর কড়াইল বস্তিতে আগুন লাগে—এমন প্রশ্নে তিনি জানান, প্রতি বছর কড়াইলে মহড়া করা হয়। মহড়ায় বিভিন্ন দুর্বল জায়গা চিহ্নিত করা হয়। কিছুদিন আগেই মহড়া শেষ হওয়ায় আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে; না হলে আরও দুই-তিন ঘণ্টা বেশি সময় লাগতে পারত।
পানির স্বল্পতা বিষয়ে তিনি বলেন, পর্যাপ্ত পানির সহায়তা পাওয়া গেছে। ফায়ার সার্ভিস, ওয়াসা এবং ড্রেন থেকেও পানি ব্যবহার করা হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, সামনে শীত আসছে; আগামী দুই মাসকে আগুনের সিজন বলা হয়। প্রতি বছর এই সময়ে আগুনের ঘটনা বেশি ঘটে।
স্থানীয়দের দাবি—হেলিকপ্টার ব্যবহার করলে আগুন দ্রুত নেভানো যেত—এ বিষয়ে তিনি বলেন, হেলিকপ্টার উড়লে বাতাসে আগুন আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। এখানে হেলিকপ্টার ব্যবহারের কোনো প্রয়োজন ছিল না।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, মঙ্গলবার বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে কড়াইল বস্তিতে আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়। শুরুতেই ১১টি ইউনিট কাজ শুরু করে, পরে আরও ৮টি ইউনিট যোগ দেয়।
খবরওয়ালা/টিএসএন