খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 10শে আশ্বিন ১৪৩২ | ২৫ই সেপ্টেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
সিরাজগঞ্জে রোপা আমন ধান চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। এ মৌসুমে প্রায় সব ক্ষেতেই সেচ মেশিনের মাধ্যমে জমিতে পানি দেওয়া হচ্ছে। সেচ মেশিন মালিকরা ফসলের সিকি ভাগ বা চারভাগের একভাগ নেওয়ার শর্তে পানি সরবরাহ করছেন বলে জানিয়েছেন কৃষক ও সেচ মেশিন মালিকরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার কৃষকেরা নগদ অর্থের পরিবর্তে ফসলের ভাগ দিয়ে সেচ খরচ মেটাতে বেশি আগ্রহী। কারণ ইরি মৌসুম শেষে কৃষকদের হাতে নগদ টাকা থাকে না। ধার-দেনা করে জমি আবাদ করার পর আবার সেচ খাতে নগদ অর্থ দেওয়া তাদের পক্ষে কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। ফলে কষ্টার্জিত ফসল দিয়েই সেচ বাবদ মূল্য পরিশোধ করতে চান তারা।
জেলা কৃষি দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ মৌসুমে জেলায় প্রায় ৭৫ হাজার হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধান আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এখনও অনেক কৃষক মাঠে চারা রোপণ করছেন। জেলার উল্লাপাড়া, তাড়াশ ও রায়গঞ্জ উপজেলায় বেশি জমিতে রোপা আমন চাষ হচ্ছে। কৃষকেরা উচ্চ ফলনশীল জাতের চারা ব্যবহার করছেন। কিছু এলাকায় অগ্রিম জাতের চারা রোপণ শেষ হয়ে গেছে, এখন সেখানে আগাছা পরিষ্কারের কাজ চলছে।
সম্প্রতি বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, রোপা আমনের জমিতে সেচ মেশিনে পানি সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় কৃষকদের মতে, সেচনির্ভর রোপা আমনে খুব বেশি পানি লাগে না। একবার বৃষ্টি হলে অন্তত এক সপ্তাহ জমিতে বাড়তি পানি দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। সেচ মেশিন মালিকরা মৌখিক চুক্তির ভিত্তিতে সিকি ভাগ বা চারভাগের একভাগ ফসল নেওয়ার শর্তে জমিতে পানি দিচ্ছেন।
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার দিঘলকান্দি গ্রামের কৃষক মনজুর রহমান বলেন, ‘রোপা আমনের জমিতে চাহিদামতো কয়েকটি অগভীর সেচ মেশিন থেকে পানি দেওয়া হচ্ছে। সেচ খরচ বাবদ আমরা ফসলের চারভাগের একভাগ মেশিন মালিককে দিই। এতে নগদ অর্থ দিতে হয় না, ফসল কাটার পরই মূল্য মেটাই।’
একই উপজেলার বেলুটিয়া গ্রামের সেচ মেশিন মালিক হরমুজ আলী জানান, তার মেশিনে প্রায় ১০০ বিঘা জমিতে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। ওই জমির ফসলের চারভাগের একভাগ দেওয়ার শর্তে সেচ দেওয়া হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, অনেকে মনে করেন এতে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিন্তু মৌসুমজুড়ে আমরা পানি দিই, আর ফসল ভাগের সময় কৃষকেরা নিম্ন ফলনের অংশটিই আমাদের দেন। এমনকি ফসল নষ্ট হলেও আলাদা খরচ দাবি করি না। বিদ্যুতের দাম বাড়লেও ভাগ বৃদ্ধি করা হয়নি।
তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শর্মিষ্ঠা সের গুপ্ত বলেন, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী সেচের বিনিময়ে নগদ অর্থ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তাই আমরা কৃষকদের সেচ বাবদ টাকা পরিশোধের পরামর্শ দিই।
খবরওয়ালা/টিএসএন