পুলিশের বরাত দিয়ে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত বিয়ের অনুষ্ঠানটি ছিল স্বর্ণকার পরিবার থেকে ২৫ বছর বয়সী সুমিত কেসারওয়ানি এবং ১৯ বছর বয়সী তনু কেসারওয়ানির। অনুষ্ঠানের সময় কনের পোষা কুকুরটি বারবার ঘেউ ঘেউ করতে থাকে, যা বরপক্ষের কিছু সদস্যের অসন্তোষের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কুকুরটিকে শান্ত করার চেষ্টা করলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায়, কুকুরকে আঘাত করার পর উত্তেজনা তীব্র হয়ে উঠে। উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয় এবং সংঘর্ষে চেয়ার ও লাঠি ব্যবহার করা হয়। এতে কনের পরিবারের তিন সদস্য — ঋষভ কেসারওয়ানি, শুভম গুপ্তা ও সঙ্গীতা দেবী — মাথায় গুরুতর আঘাত পান। এছাড়া একজনের হাত ভেঙে যায়। বরপক্ষের কয়েকজনও সামান্য আহত হন।
খাগা থানার এসএইচও আর কে প্যাটেল জানান, এখনো পর্যন্ত কোনো পক্ষ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেনি। তবে স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, উভয় পরিবারের মধ্যে উত্তেজনা এতটাই প্রবল যে বিয়ের অনুষ্ঠান অব্যাহত রাখা সম্ভব হয়নি। তাই, বিয়ের আয়োজনকারীরা নিরাপত্তার কারণে অনুষ্ঠানটি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেন।
এ ঘটনায় আহতদের অবস্থা এবং চিকিৎসার জন্য স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আরও নিরাপত্তা জোরদার করেছে।
নিচের টেবিলে বিয়ের সময় সংঘর্ষে আহত ব্যক্তিদের নাম ও আহত স্থানের তথ্য সংক্ষেপে দেওয়া হলো:
| পক্ষ |
আহত ব্যক্তির নাম |
আহত স্থান/আঘাতের ধরন |
অবস্থা |
| কনের পরিবার |
ঋষভ কেসারওয়ানি |
মাথায় আঘাত |
গুরুতর |
| কনের পরিবার |
শুভম গুপ্তা |
মাথায় আঘাত |
গুরুতর |
| কনের পরিবার |
সঙ্গীতা দেবী |
মাথায় আঘাত |
গুরুতর |
| কনের পরিবার |
অজানা ব্যক্তি |
হাত ভাঙা |
গুরুতর |
| বরপক্ষ |
অজানা কয়েকজন |
সামান্য আঘাত |
স্থিতিশীল |
উত্তর প্রদেশের স্থানীয় সমাজ বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরনের ঘটনা সামাজিক উত্তেজনা ও পারিবারিক মনমালিন্যের প্রতিফলন। বিশেষ করে, অনুষ্ঠানের সময় প্রাণীর উপস্থিতি বা আচরণ নিয়ন্ত্রণে না রাখলে ছোট বিষয়কেও বড় সংঘর্ষের রূপ নিতে পারে।
স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসন এখন উভয় পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে যাতে ভবিষ্যতে এমন অপ্রত্যাশিত ঘটনা এড়ানো যায়। এই ঘটনাটি সারা দেশে সামাজিক মিডিয়ায় আলোচিত হওয়ায় স্থানীয় মানুষও শোকাহত এবং অবাক হয়েছেন, কারণ একটি পোষা কুকুরের কারণে এমন মারাত্মক পরিস্থিতি সৃষ্টি হলো।
সর্বশেষ, চিকিৎসকদের মতে আহতদের মধ্যে কেউ জীবনহানির ঝুঁকিতে নেই, তবে তাদের পূর্ণরূপে সুস্থ হওয়ার জন্য পর্যাপ্ত চিকিৎসা প্রয়োজন।