খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১ নভেম্বর ২০২৫
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মেয়াদ শেষ হয়েছে শুক্রবার।
মেয়াদ শেষের দিনেও এনসিপিসহ পাঁচটি রাজনৈতিক দল কমিশনের প্রণীত জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেনি।
কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ জানান, জুলাই সনদ সরকারকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন যদি কোনো রাজনৈতিক দল সনদে স্বাক্ষর করতে চায়, তবে সরকারে সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমেই তা করতে পারবে।
গত বছরের অক্টোবরে সংবিধান, নির্বাচন ব্যবস্থা, বিচার বিভাগ, জনপ্রশাসন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও পুলিশ সংস্কারে ছয়টি পৃথক কমিশন গঠন করে সরকার। এসব কমিশনের কয়েকজন প্রধান ও সদস্যকে নিয়ে গত ১২ ফেব্রুয়ারি ছয় মাস মেয়াদি জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করা হয়। ১৫ ফেব্রুয়ারি প্রধান উপদেষ্টা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে কমিশনের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।
ঐকমত্য কমিশন ছয় সংস্কার কমিশনের ১৬৬টি সুপারিশের ওপর ভিত্তি করে গত মার্চে প্রথম দফায় সংলাপ শুরু করে। ২২ মার্চ থেকে ১৯ মে পর্যন্ত ৪৪টি বৈঠকে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে ৬২টি সংস্কার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছে কমিশন। দ্বিতীয় দফার সংলাপ শুরু হয় ৩ জুন, যা চলে ৩১ জুলাই পর্যন্ত। ওই পর্যায়ে আরও ২২টি মৌলিক সংস্কারে ঐকমত্য গড়ে ওঠে। সব মিলিয়ে মোট ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে জুলাই সনদ প্রণয়ন করা হয়।
পরে আগস্টে কমিশনের মেয়াদ এক মাস বাড়ানো হয়। ১৭ সেপ্টেম্বর জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। কমিশনের মেয়াদ পরবর্তীতে দুই দফায় বাড়িয়ে সর্বশেষ ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত করা হয়।
গত ১৭ অক্টোবর সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় বিএনপি, জামায়াতসহ ২৪টি দল জুলাই সনদে স্বাক্ষর করে। পরদিন আরও একটি দল সই করে। তবে এনসিপিসহ পাঁচটি দল সই করেনি। ২৮ অক্টোবর কমিশন সরকারের কাছে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সুপারিশ ও “জুলাই সনদ বাস্তবায়ন (সংবিধান সংস্কার) আদেশ”-এর খসড়া জমা দেয়।
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক জাবেদ রাসিন জানিয়েছেন, আদেশ জারির পর সনদে সইয়ের বিষয়টি তারা বিবেচনা করবেন।
কমিশনের প্রশাসনিক সহায়তা দেয় সংসদ সচিবালয়। কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, বৃহস্পতিবার শেষ কর্মদিবসে কমিশনের কার্যালয়ের একাংশ সংসদ সচিবালয়কে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগামী রোববার বাকি অংশও বুঝিয়ে দেওয়া হবে।
খবরওয়ালা/আশ