খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 10শে বৈশাখ ১৪৩৩ | ২৩ই এপ্রিল ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশন (ইউএনএইচসিআর)-এর শুভেচ্ছা দূত হিসেবে জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ও অভিনেতা টাহসান খানকে পুনরায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটির সঙ্গে তার চলমান সম্পৃক্ততার ধারাবাহিকতায় গত বুধবার তার নিয়োগের মেয়াদ আনুষ্ঠানিকভাবে নবায়ন করা হয়।
নতুন করে দায়িত্ব পাওয়ার পর টাহসান রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘস্থায়ী মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা শরণার্থীদের বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার প্রায় নয় বছর অতিক্রান্ত হয়েছে। এখনো টেকসই সমাধান না আসায় তাদের প্রতি মানবিক সহানুভূতি অব্যাহত রাখা অত্যন্ত জরুরি।
তিনি আরও জানান, বাস্তুচ্যুত পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ তার জীবনের এক গভীর আবেগময় অভিজ্ঞতা। অনেক পরিবার তাদের প্রিয়জন, ঘরবাড়ি ও স্বাভাবিক জীবন হারিয়েছে। তবুও তাদের সহনশীলতা ও বেঁচে থাকার সংগ্রাম তাকে অনুপ্রাণিত করে। তিনি বলেন, “তাদের গল্প বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছে দেওয়া আমার দায়িত্ব।”
টাহসান প্রথমবার ২০২১ সালে বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআর-এর শুভেচ্ছা দূত হিসেবে নিয়োগ পান। এরপর থেকে তিনি শরণার্থী অধিকার রক্ষা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। তিনি কক্সবাজারের বিভিন্ন শরণার্থী শিবির পরিদর্শন, আন্তর্জাতিক সচেতনতা দিবসে অংশগ্রহণ এবং বিভিন্ন প্রচারণামূলক কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন।
২০২৫ সালে শরণার্থী শিবিরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর তিনি সরেজমিনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। সে সময় তিনি বলেন, এমন দুর্ঘটনা হাজারো মানুষের জীবনে কী ভয়াবহ প্রভাব ফেলতে পারে, তা তিনি প্রত্যক্ষভাবে উপলব্ধি করেছেন।
ইউএনএইচসিআর-এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইজেন টাহসানকে একজন নিবেদিতপ্রাণ কণ্ঠস্বর হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, শরণার্থীদের অধিকার ও সুরক্ষার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে টাহসানের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার দায়িত্বকাল বাড়ানোয় সংস্থাটি সন্তুষ্ট এবং ভবিষ্যতেও যৌথভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে।
বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী বসবাস করছে। এর মধ্যে অধিকাংশই কক্সবাজার জেলার ৩৩টি ঘনবসতিপূর্ণ শিবিরে অবস্থান করছে, যা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শরণার্থী আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত।
নিচে টাহসানের ইউএনএইচসিআর সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| প্রথম নিয়োগ | ২০২১ সাল |
| পুনঃনিয়োগ | ২০২৬ সাল (বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে নবায়ন) |
| দায়িত্বের ক্ষেত্র | শরণার্থী অধিকার, জনসচেতনতা, মানবিক সহায়তা |
| প্রধান কার্যক্রম এলাকা | কক্সবাজারের শরণার্থী শিবির |
| শরণার্থীর সংখ্যা | প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা |
| শিবির সংখ্যা | ৩৩টি |
| বৈশ্বিক অবস্থান | ইউএনএইচসিআর-এর ৩৬ জন শুভেচ্ছা দূতের একজন |
টাহসান জানান, যতদিন পর্যন্ত রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী ও নিরাপদ সমাধান না আসে, ততদিন তাদের পাশে থাকা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা বিশ্ব সম্প্রদায়ের দায়িত্ব। তার মতে, মানবিক সংকট মোকাবিলায় সহানুভূতি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি।