খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 29শে মাঘ ১৪৩২ | ১১ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার মেঘারপটল গ্রামে ভোট চাইতে গিয়ে এক গৃহবধূকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে চার যুবকের বিরুদ্ধে। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্বামী টাঙ্গাইলের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালতে চারজনকে অভিযুক্ত করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
অভিযুক্তরা হলেন—ইব্রাহীমের ছেলে শহিদুল (৩০), আনোয়ার হোসেনের ছেলে সোহেল (২৫), আলী আকবর মুন্সির ছেলে এনামুল (৩২) এবং আকবর ফকিরের ছেলে আল আমিন (৩০)। তারা সবাই একই এলাকার বাসিন্দা।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, স্থানীয় এক রাজনৈতিক দলের ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের পক্ষে ভোট চাইতে তারা নাজমুল নামের এক ব্যক্তির বাড়িতে যান। সে সময় বাড়িতে নাজমুল বা অন্য কোনো পুরুষ সদস্য উপস্থিত ছিলেন না। বাড়িতে থাকা গৃহবধূ তাদের চলে যেতে অনুরোধ করেন। তবে অভিযুক্তরা সেখানে অবস্থান করে তাকে নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন।
গৃহবধূ তাদের জানান, তিনি ভোটার নন এবং তার পরিবারের সদস্যরা অন্য প্রতীকে—‘ধানের শীষ’—ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, এ কথা শুনে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে শহিদুল নামে একজন তাকে জোরপূর্বক জড়িয়ে ধরে স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেন। অন্যরা দলবদ্ধভাবে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগে বলা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে অভিযুক্তরা দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বিষয়টি প্রকাশ করলে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়।
নিচে অভিযুক্তদের সংক্ষিপ্ত তথ্য তুলে ধরা হলো—
| ক্রম | নাম | বয়স | পিতার নাম | এলাকা |
|---|---|---|---|---|
| ১ | শহিদুল | ৩০ | ইব্রাহীম | মেঘারপটল, ভূঞাপুর |
| ২ | সোহেল | ২৫ | আনোয়ার হোসেন | মেঘারপটল, ভূঞাপুর |
| ৩ | এনামুল | ৩২ | আলী আকবর মুন্সি | মেঘারপটল, ভূঞাপুর |
| ৪ | আল আমিন | ৩০ | আকবর ফকির | মেঘারপটল, ভূঞাপুর |
এ বিষয়ে উপজেলা জামায়াতের আমির আব্দুল্লাহ আল মামুন অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। তার ভাষ্য, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতেই এ ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
অন্যদিকে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভূঞাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মেরাজুল ইসলাম রুবেল বলেন, অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও সাক্ষ্যগ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয়ভাবে ঘটনাটি ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। নির্বাচনী প্রচারকে কেন্দ্র করে সহিংসতা বা নারী নির্যাতনের অভিযোগ গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন সচেতন মহল। প্রশাসনের নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তই এখন সবার প্রত্যাশা।