খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৫
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের চলমান কর্মবিরতি এবং পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচিকে ‘শৃঙ্খলা-পরিপন্থী’ আখ্যা দিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে—অবিলম্বে কাজে যোগ না দিলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে চাকরি আইন, সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা এবং প্রয়োজনে ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বুধবার (৩ ডিসেম্বর) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে মন্ত্রণালয় এ অবস্থান জানায়। এতে বলা হয়, ১ ডিসেম্বর থেকে বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠন কর্মবিরতি পালন করে আসছে এবং ৩ ডিসেম্বর থেকে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ নামে পূর্ণ কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে—যা সরাসরি জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থাকে ব্যাহত করছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, শিক্ষকদের তিন দফা মূল দাবি—
১) ১১তম গ্রেডে বেতন নির্ধারণ,
২) ১০ ও ১৬ বছরের চাকরি শেষে স্বয়ংক্রিয় উচ্চতর গ্রেড,
৩) প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি।
মন্ত্রণালয় জানায়, এই দাবিগুলোর বিষয়ে ইতিমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এমনকি উপদেষ্টা, পে-কমিশন এবং অর্থ বিভাগের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে আলোচনা করেছেন মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা।
এর আগেও ৭ আগস্ট জাতীয় বেতন কমিশনের চেয়ারম্যানকে ১৩তম গ্রেড থেকে ১১তম গ্রেডে উন্নীতকরণের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। ১০ নভেম্বর অর্থ বিভাগ মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছে—পে-কমিশনের রিপোর্ট পাওয়া মাত্র প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অর্থাৎ সরকারের ভাষ্য— দাবি পূরণের প্রক্রিয়া চলমান এবং কোনোভাবেই আলোচনার প্রক্রিয়া বন্ধ নয়।
এ ধরনের ঘটনা সরকারি চাকরি আইনের লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করে মন্ত্রণালয় জানায়—
“শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মসূচি কখনোই মেনে নেওয়া হবে না।”
মন্ত্রণালয় নির্দেশ দেয়, দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষককে দ্রুত কাজে যোগ দিতে হবে এবং তৃতীয় প্রান্তিকের পরীক্ষাসহ সব শিক্ষাকর্ম আগের মতো চালাতে হবে।
অন্যথায় কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
এই ঘটনাপ্রবাহ বাংলাদেশে শিক্ষক আন্দোলনের নতুন বাস্তবতা তুলে ধরেছে।
• দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা পেশায় বেতন-গ্রেড অসামঞ্জস্যতা নিয়ে অসন্তোষ ছিল।
• নতুন পে-কমিশন প্রক্রিয়ায় শিক্ষকদের প্রত্যাশা বাড়লেও তার বাস্তবায়নে সময় লাগবে—এটাই মূল উত্তেজনার কারণ।
• সরকার মনে করছে, দায়িত্বশীল পেশার সঙ্গে আন্দোলনের এই ধরন মানানসই নয়।
• অপরদিকে শিক্ষকরা চাইছেন—সরকার সুস্পষ্ট সময়সীমা দিক, শুধু আশ্বাস নয়।
সংকট সমাধানে উভয় পক্ষের সংলাপ প্রয়োজন। কারণ যে কোনো পক্ষের কঠোর অবস্থান সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত করবে কোমলমতি শিক্ষার্থীদেরই।