খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 4শে আশ্বিন ১৪৩২ | ১৯ই সেপ্টেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
রংপুরের পীরগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শ্রমিক উইংয়ের এক কেন্দ্রীয় সংগঠকের করা হত্যাচেষ্টার মামলাকে ঘিরে এলাকায় তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মামলায় আসামি হওয়া কয়েকজন বলছেন, তাঁরা ঘটনার দিন কারাগারে বা দেশের বাইরে ছিলেন। তাঁদের অভিযোগ, হয়রানি ও মামলা বাণিজ্যের জন্যই নাম জড়ানো হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, বাদীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই এজাহার নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ, আদালত ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ১৪ আগস্ট পীরগঞ্জ থানায় মামলা করেন মিঠিপুর ইউনিয়নের হাফিজুর সরকার। তিনি নিজেকে এনসিপির শ্রমিক উইংয়ের কেন্দ্রীয় সংগঠক ও রংপুর বিভাগীয় সার্চ কমিটির প্রধান বলে দাবি করেন। মামলায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের একাধিক নেতাকে আসামি করা হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়, গত ৬ জুলাই রাত ১১টার দিকে শহর থেকে ভ্যানে বাড়ি ফেরার পথে কুতুবপুর মৌজার পাল্লার পাতা এলাকায় হাফিজুরের ওপর হামলা হয়। তাঁর অভিযোগ, আগে থেকে ওত পেতে থাকা আসামিরা ভ্যান থামিয়ে গালিগালাজ শুরু করে। তখন তিনি ভ্যান থেকে নেমে আসামিদের ‘মোবাইলের আলোতে’ চিনতে পেরে আপত্তি জানান। এরপর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর মেয়র তাজিমুল ইসলামের নির্দেশে কয়েকজন লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে তাঁকে গুরুতর জখম করে।
হাফিজুর আরও দাবি করেন, এর আগের বছর ৪ আগস্ট মহাসড়কে আন্দোলনের সময়ও একই আসামিরা তাঁর ওপর হামলা চালায়, যাতে ২০-৩০ জন আহত হন।
কিন্তু তদন্তে জানা যায়, মামলার অন্যতম আসামি সাবেক সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদ মণ্ডল ও আওয়ামী লীগ নেতা শহিদুল ইসলাম ওরফে পিন্টু তখন কারাগারে ছিলেন। রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ জেল সুপার মোকাম্মেল হোসেন নিশ্চিত করেন, শহিদুল ১৬ জুন থেকে কারাগারে এবং নূর মোহাম্মদ ১৯ জুন কারাগারে যান। তিনি ১৩ জুলাই জামিনে মুক্তি পান।
অন্যদিকে মামলার ৫ নম্বর আসামি সিরাজুল ইসলাম তখন থাইল্যান্ডে ছিলেন বলে দাবি করেন। তিনি জানান, ৪ জুলাই রাতে তিনি থাইল্যান্ডে যান এবং ২০ জুলাই দেশে ফেরেন। তাঁর প্রশ্ন, ‘আমি বিদেশে থাকাকালে বাদী আমাকে কীভাবে চিনলেন?’ এ বিষয়ে তিনি থানায় লিখিত প্রমাণও দিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মামলায় আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে, যাঁরা ঘটনার দিন ঢাকায় ওমরাহ ভিসার কাজ করতে গিয়েছিলেন বা দীর্ঘদিন ধরে অন্য শহরে বসবাস করছেন।
এ নিয়ে বাদী হাফিজুর সরকার বলেন, ‘আমার ওপর হত্যাচেষ্টা হয়েছে। মামলায় গত বছরের ঘটনার কথাও উল্লেখ করেছি। কেউ জেলে থাকলেও বাইরে থেকে নির্দেশ দিতে পারে।’ মামলা বাণিজ্যের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, নাম বাদ দেওয়ার জন্য কারও কাছ থেকে টাকা চাননি।
এদিকে বড় দরগাহ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাফিয়া আক্তার অভিযোগ করেন, মামলায় চার ইউপি চেয়ারম্যানকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচগাছি ইউপি চেয়ারম্যান বাবলু মিয়াকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। তাঁর দাবি, বাদীপক্ষের লোকজন নাম বাদ দেওয়ার বিনিময়ে টাকা দাবি করেছে, তবে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, মামলায় দুটি ঘটনার উল্লেখ আছে। তদন্ত চলছে, শেষ হলে আসামিদের বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।
খবরওয়ালা/এন