খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ই আগস্ট ২০২৬, ৯:৩৯ পিএম
ফেনীতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত শহীদদের পরিবার ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা সভায় বাংলাদেশ পুলিশের দায়িত্ব ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এক আবেগঘন মন্তব্য করেছেন জেলার পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার। তিনি বলেছেন, “আমাদের চাকরির ধরনটাই এমন যে, আমরা যত কিছুই করি না কেন, হয়তো কারোরই মন রক্ষা করতে পারি না। আমাদের পুলিশের চাকরি দেখে অনেক সময় মনে হয়, ‘জন্মই যেন আমাদের আজন্ম পাপ’।”
বুধবার দুপুরে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এই সংবর্ধনা সভায় শহীদ পরিবারের সদস্যরা জুলাই অভ্যুত্থান চলাকালীন ও পরবর্তী সময়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন সমালোচনা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাদের সেই বক্তব্যের ধারাবাহিকতায় এবং উপস্থিত জনমতের প্রেক্ষিতে পুলিশ প্রধান নিজ অবস্থান ও বাহিনীর চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরে এসব কথা বলেন।
নিজের অভিজ্ঞতা ও পুলিশ প্রশাসনের টানা কাজের বিবরণ দিতে গিয়ে প্রত্যুষ কুমার মজুমদার জানান, তিনি ফেনীতে নতুন পুলিশ প্রধান হিসেবে যোগ দিয়েছেন মাত্র দেড় মাস আগে। তার দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বে এই জেলায় আরও দুজন পুলিশ সুপার দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, বৈষম্যবিরোধী গণঅভ্যুত্থান সম্পর্কিত ঘটনাগুলোতে ফেনীতে এখন পর্যন্ত মোট ২২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ প্রশাসন অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে তদন্ত চালিয়ে ইতিমধ্যে এসব মামলার মধ্যে ১৪টির অভিযোগপত্র (চার্জশিট) আদালতে দাখিল করতে সক্ষম হয়েছে।
তদন্ত ও আসামিদের আইনি ব্যবস্থার হালনাগাদ তথ্য দিয়ে তিনি জানান, এখন পর্যন্ত এসব মামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০-এর বেশি আসামিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেপ্তার করেছে। তবে বিচারিক ও আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তাদের মধ্যে প্রায় ৮৬০ জন আসামি আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে গেছেন। আদালত ও জামিন সংক্রান্ত সার্বিক ব্যবস্থা বিচার বিভাগের অধীন হওয়ায় পুলিশের সীমাবদ্ধতার দিকটিও তিনি সেখানে ইঙ্গিত করেন।
এর আগে সকালে জেলা শহরের মুক্তবাজার এলাকায় অবস্থিত ‘জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে’ শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু হয়। দিনের প্রথম প্রহরে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন ফেনীর জেলা প্রশাসক মনিরা হক। পরবর্তীতে জেলা পুলিশ প্রশাসন, স্থানীয় সরকার বিভাগ, জেলা পরিষদ ও সিভিল সার্জন কার্যালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা একে একে শ্রদ্ধা জানান। পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহীদদের স্মৃতি ও আত্মত্যাগকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।
স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে দুপুরে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে মূল সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে ফেনী জেলার জুলাই শহীদদের পরিবারবর্গ এবং আন্দোলনে আহত বীর যোদ্ধাদের হাতে বিশেষ সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং শহীদদের স্বপ্নের নতুন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো যাতে দ্রুততম সময়ে যথাযথ ন্যায়বিচার পায়, সে বিষয়ে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান উপস্থিত সুধীজন।
মন্তব্য