নিজস্ব প্রতিনিধি, কুষ্টিয়া
প্রকাশ: 8শে বৈশাখ ১৪৩২ | ২১ই এপ্রিল ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর ইউনিয়নের কান্তিনগর গোয়ালদাহ এলাকায় বাকপ্রতিবন্ধী এক নারীর নামে ভুয়া তালাকনামা দেখিয়ে এক লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মফিজ নামের এক প্রতারকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার কুষ্টিয়া মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।
ভুক্তভোগী মোছা. ছামিয়া খাতুন (বৃষ্টি) প্রায় দুই বছর আগে একই এলাকার রফিকুল ইসলামের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বাকপ্রতিবন্ধী হওয়ায় তাদের দাম্পত্য জীবনে মাঝে মাঝে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়। এই সুযোগ কাজে লাগায় স্থানীয় প্রতারক মফিজ।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতারক মফিজ রফিকুলের পরিবারকে বোঝায়, বৃষ্টি যেহেতু প্রতিবন্ধী, তাকে তালাক দিলেই ভালো হবে। তিনি বলেন, তার কাছে ভালো উকিল আছে, এক লাখ টাকা দিলে দ্রুত তালাকের ব্যবস্থা করে দিতে পারবেন। বিষয়টি বিশ্বাস করে রফিকুলের পরিবার কিস্তিতে এক লাখ টাকা তুলে মফিজকে দেয়। পরে মফিজ একটি ভুয়া তালাকনামা দেখিয়ে পুরো টাকা নিয়ে নেন।
কিন্তু কিছুদিন পর জানা যায়, তালাকের কোনো আইনগত কার্যক্রম হয়নি, কাগজপত্র সব ভুয়া। এর মধ্যে রফিকুল আবার স্ত্রী বৃষ্টিকে বাড়ি নিয়ে যান। টাকা ফেরত চাইলে মফিজ টালবাহানা শুরু করে এবং হুমকি-ধামকি দিতে থাকে।
বৃষ্টির শাশুড়ি রাশেদা খাতুন জানান, “আমরা গরিব মানুষ। কিস্তি করে এক লাখ টাকা তুলে মফিজকে দেই। সে বলে তালাক দিলে ভালো হবে। পরে বুঝি আমাদের সঙ্গে প্রতারণা হয়েছে। এখন টাকা চাইলে বলে কাল দেবো, পরশু দেবো। এক বছর ধরে ঘুরাচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, এলাকার মেম্বার বাঁশ খালেকসহ কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তিকেও বিষয়টি জানিয়েও কোনো সহযোগিতা পাননি। এমনকি বাড়ির একটি ছাগল বিক্রি করে ৯ হাজার টাকা দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পরিবারটি বর্তমানে চরম অসহায়ত্বের মধ্যে রয়েছে এবং মফিজের বিরুদ্ধে গতকাল কুষ্টিয়া মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোশারফ হোসেনকে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি বিকাল থেকে থানার বাইরে আছি। যদি অভিযোগ দিয়ে থাকে, তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
খবরওয়ালা/এমবি