খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬
বিদ্যুৎ সাশ্রয় নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে দেশের সব শপিংমল, বিপণিবিতান ও দোকানপাট পুনরায় সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। দেশের চলমান বিদ্যুৎ পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবং অপচয় রোধে সরকার এই সিদ্ধান্ত পুনর্বহাল করেছে।
আজ সোমবার বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত একটি সরকারি নির্দেশনা দেশের সব সিটি করপোরেশনের মেয়র ও প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকদের কাছে পাঠানো হয়েছে। মাঠপর্যায়ে এই নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রশাসনের কর্মকর্তাদের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এর আগে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সারা দেশে শপিংমল, মার্কেট ও দোকানপাট সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খোলা রাখার সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছিল। তবে মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাসাধারণের সুবিধার্থে এবং ব্যবসা-বাণিজ্য চাঙ্গা রাখতে গত ১০ মে থেকে সাময়িকভাবে এই সময়সীমা বৃদ্ধি করা হয়েছিল। বর্ধিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঈদের বাজার করার সুবিধার্থে রাত ১০টা পর্যন্ত দোকানপাট ও শপিংমল খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া হয়।
বিদ্যুৎ বিভাগের সাম্প্রতিক নির্দেশনায় জানানো হয়েছে যে, ঈদ উপলক্ষে দেওয়া এই বিশেষ সুবিধার মেয়াদ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। যার ফলে ১ জুন থেকে আবারও সরকারের পূর্ববর্তী মূল সিদ্ধান্তটি কার্যকর করা হয়েছে। এখন থেকে রাত ১০টার পরিবর্তে দেশের সব ধরনের শপিংমল, মার্কেট, দোকানপাট এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে তাদের যাবতীয় ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্পন্ন করে বন্ধ করতে হবে।
বিদ্যুৎ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সাশ্রয় নিশ্চিত করতে সরকার আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা জারি করেছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, শপিংমল ও দোকানপাটের পাশাপাশি নিম্নলিখিত ক্ষেত্রগুলোতেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে:
বিলবোর্ড: দেশের শহর ও মহাসড়কগুলোতে স্থাপিত সব ধরনের বিলবোর্ডের বাতি সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে।
মেলা ও উৎসব: দেশের বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত মেলা, বাণিজ্য মেলা এবং যেকোনো ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রেও এই একই সময়সীমা (সন্ধ্যা ৭টা) প্রযোজ্য হবে।
আলোকসজ্জা: অপচয় রোধে সামাজিক অনুষ্ঠান বা বিপণিবিতানগুলোতে অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা পরিহার করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের নির্দেশনা ও সময়সীমার পরিবর্তনগুলো নিচে টেবিল আকারে উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয়ের বিবরণ | পূর্ববর্তী বিশেষ নিয়ম (১০ মে থেকে) | বর্তমান পুনঃস্থাপিত নিয়ম (১ জুন থেকে) |
| শপিংমল, মার্কেট ও দোকানপাট | রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার অনুমতি | সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে আবশ্যিকভাবে বন্ধ |
| বিলবোর্ডের বাতি | শিথিলযোগ্য ছিল | সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ করতে হবে |
| মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান | নির্দিষ্ট সময়সীমা ছিল না | সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে কার্যক্রম শেষ করতে হবে |
| সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য | ঈদ উপলক্ষে ব্যবসা-বাণিজ্যের সুবিধা | দেশব্যাপী বিদ্যুৎ সাশ্রয় নিশ্চিতকরণ |
সরকারি এই নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তদারকি জোরদার করতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং লোডশেডিং নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারের এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।