খবরওয়ালা ক্যাম্পাস ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৫
কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসিক হলের সিটে থাকাকে কেন্দ্র করে দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসের ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি ওয়াসিফ আল আবরারের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার (৩০ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আজিজুর রহমান হলের দেশীয় ব্লকের ৪০৫ নং কক্ষে এই ঘটনা ঘটে। পরে আহত আবরারকে হলের অন্যান্য শিক্ষার্থীরা এসে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেলে ভর্তি করেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, শাহ আজিজুর রহমান হলের ৪০৫ নম্বর কক্ষে অতিথি হিসেবে অবস্থান করছিলেন সাংবাদিক আবরার। এ সময় ৮-১০ জন শিবিরের কর্মী তার কক্ষে যেয়ে সে কেন ওই কক্ষে অবস্থান করছে তা জেরা করতে শুরু করে। কথাবার্তার একপর্যায়ে আবরার ছাত্রলীগ করে এমন অভিযোগ তুলে তাকে হল থেকে নেমে যেতে বলে তারা। সাংবাদিকের সাথে দুর্ব্যবহারের সময় আবরার ফোন বের করে তাদের ভিডিও ধারণ করে। বাকবিতন্ডার একপর্যায়ে ভিডিও চলাকালেই তারা রুমে ঢুকে লাইট বন্ধ করে ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে এবং মারধর করে।
এ সময় আবরারের রুমমেট ইমন এসে তাদের থামিয়ে দিয়ে আবরারকে সময় দেওয়ার অনুরোধ জানালে তারা ২ মিনিটে সব জিনিসপত্র নিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। এসময় তারা আবরারের ফোনের ভিডিও ডিলেট করতে বারবার চাপ দেয়। সে ভিডিও ডিলেট করতে সম্মত না হলে আবারো তার উপর চড়াও হয়। এসময় তাকে টেনেহিঁচড়ে রুমের বাইরে বের করলে বাংলাদেশ জমিয়তে তালাবায়ে আরাবিয়ার সাবেক সেক্রেটারি সাজ্জাতুল্লাহ শেখ এসে তাদের হাত থেকে আবরারকে ছিনিয়ে নেয় এবং কোন অভিযোগ থাকলে সেটা দেখার দায়িত্ব তাদের না বললে সাজ্জাতুল্লাহর সাথেও বাকবিতন্ডায় জড়ায় শিবিরকর্মীরা।
এ সময়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সহ-সমন্বয়ক নাহিদ হাসান, ইয়াশিরুল কবীর, তানভীর মন্ডল, মুবাশ্বির আমিন, শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আনোয়ার পারভেজ, তার অনুসারী তৌহিদ, অর্ক, আলামিন, ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি ইসমাইল হোসেন রাহাত, ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মাহমুদুল হাসান ছাড়াও বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক ও হলের শিক্ষার্থীরা।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক আবরার বলেন, আবাসন সংকটে বাধ্য হয়ে আমি শাহ আজিজ হলের ৪০৫ নং রুমে কাছের বড় ভাই বাড়িতে থাকায় তার বেডে অবস্থান করছিলাম। গভীররাতে আচমকা কয়েকজন দরজা নক করতে থাকে এবং পরবর্তীতে আমাকে মারধর করে। আমি তখনি হল থেকে চলে যেতে চাইলেও আবারো আমার উপর চড়াও হয় তারা। ছাত্রলীগের ট্যাগ দিয়ে আমাকে দেড় ঘন্টা ধরে শারিরিক নিরযাতন করে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা। হামলার সাথে জড়িতদের বিচারের দাবি সাংবাদিক আবরার ও তার সহপাঠীদের।
খবরওয়ালা/এমবি