খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 14শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ২৬ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
কুষ্টিয়া-৩ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা সম্প্রতি এক বক্তব্যে বলেছেন, “কুষ্টিয়ায় এখন উপরওয়ালা বলে কেউ নেই, উপরওয়ালা আমি।” তাঁর এই মন্তব্য স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
মুফতি আমির হামজা বলেন, জেলার বিভিন্ন খাতে অনিয়ম ও ‘দুই নম্বরি’ বন্ধে তিনি কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। কেউ যদি দুর্নীতি বা অবৈধ লেনদেনের চেষ্টা করে, তবে তাঁর নাম উল্লেখ করতে বলেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, “যদি কেউ দুই নম্বরি করতে চায়, আমার কথা বলবেন। বলবেন, মাওলানা সাহেবের কাছে টাকা দেওয়া আছে, তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এত ক্ষমতা নিয়ে কুষ্টিয়ায় কে চলে, আমি দেখব।” তাঁর এই বক্তব্যকে কেউ কেউ প্রশাসনিক কঠোরতার বার্তা হিসেবে দেখছেন, আবার সমালোচকেরা বলছেন, বক্তব্যের ভাষা আরও সংযত হওয়া উচিত ছিল।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক ইকবাল হোসন এবং মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডাক্তার শহিদুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সভায় মূলত মেডিকেল কলেজের অবকাঠামো, শিক্ষকসংকট, চিকিৎসাসেবার পরিধি বৃদ্ধি এবং নতুন বিভাগ চালুর বিষয়ে আলোচনা হয়।
সংসদ সদস্য বলেন, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ এ অঞ্চলের মানুষের আবেগ ও প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দু। বর্তমানে কলেজটিতে সীমিতসংখ্যক বিভাগ চালু রয়েছে, ফলে রোগীদের অনেক সময় রাজশাহী বা ঢাকায় রেফার করতে হয়। তিনি জানান, আগামী সাত দিনের মধ্যে একটি “সুখবর” দেওয়া হবে, যা চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। যদিও তিনি নির্দিষ্ট করে সেই ঘোষণার বিষয়বস্তু জানাননি, সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে নতুন বিভাগ চালু বা জনবল নিয়োগসংক্রান্ত অগ্রগতি থাকতে পারে।
নিচে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের বর্তমান অবস্থা ও সম্ভাব্য উন্নয়ন নিয়ে সংক্ষিপ্ত তথ্য উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | বর্তমান অবস্থা | সম্ভাব্য উন্নয়ন |
|---|---|---|
| চালু বিভাগ | সীমিতসংখ্যক ক্লিনিক্যাল বিভাগ | নতুন বিশেষায়িত বিভাগ সংযোজনের আলোচনা |
| চিকিৎসকসংখ্যা | প্রয়োজনের তুলনায় কম | নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিতের উদ্যোগ |
| শয্যাসংখ্যা | আংশিক ব্যবহারযোগ্য | অবকাঠামো সম্প্রসারণ পরিকল্পনা |
| রেফার রোগী | উচ্চহার | স্থানীয়ভাবে বিশেষায়িত চিকিৎসা চালুর লক্ষ্য |
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, জেলার স্বাস্থ্যখাতে দৃশ্যমান উন্নয়ন জরুরি। বিশেষ করে হৃদরোগ, শিশুস্বাস্থ্য ও নিবিড় পরিচর্যা ইউনিট চালুর দাবি দীর্ঘদিনের। রাজনৈতিক অঙ্গনে অবশ্য সংসদ সদস্যের বক্তব্য নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। কেউ এটিকে নেতৃত্বের দৃঢ়তা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ মনে করছেন জনপ্রতিনিধির বক্তব্যে সংযম ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর প্রতি শ্রদ্ধা থাকা প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে, কুষ্টিয়ার স্বাস্থ্যখাত উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি ও রাজনৈতিক ভাষ্য—দুটিই এখন জনমনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। আগামী সাত দিনের ঘোষণাই হয়তো স্পষ্ট করবে, উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে।