খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই ২০২৫
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুন কোটা ব্যবস্থা নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্কের প্রেক্ষিতে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি তীব্র সমালোচনা করে লিখেছেন—“কোটার বিরুদ্ধে আন্দোলন করে এখন আবার কোটা চালু করা কি বাটপারি নয়?”
সোমবার (১৪ জুলাই) প্রকাশিত স্ট্যাটাসে তিনি বর্তমান প্রেক্ষাপট নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং কোটাবিরোধী আন্দোলনের মূল চেতনার সঙ্গে বর্তমান ‘পুনর্বহাল দাবির’ অসঙ্গতি তুলে ধরেন।
ড. মামুন লিখেছেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান, কোটা, জাতীয় সংস্কারক, ‘জাতীয় বীর’, দেশের ৬৪টা জেলায় ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’—এসব কিছুকে এখন পণ্যে রূপান্তরিত করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। অভ্যুত্থানের মূল্যবোধের চেয়ে এখন যেন ব্যক্তিগত স্বার্থ বড় হয়ে উঠছে।”
তার মতে, আন্দোলনের প্রকৃত লক্ষ্য ছিল একটি ন্যায্য ও যুক্তিবোধসম্পন্ন রাষ্ট্র কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা। অথচ এখন অনেকেই সেই আদর্শ থেকে সরে এসে কেবল ‘পয়েন্ট স্কোরিং’ আর রাজনৈতিক ব্র্যান্ডিংয়ে ব্যস্ত।
ড. মামুন তার স্ট্যাটাসে আরও বলেন, “যা করা দরকার, যা করলে দেশের ও দেশের মানুষের মঙ্গল হয়—সেদিকে কারও নজর নেই। তাহলে আগের শাসকের সঙ্গে পার্থক্য কোথায়?”
তিনি মনে করেন, একদিকে কোটাবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া এবং অন্যদিকে একই গোষ্ঠীরই কোটা পুনর্বহালের দাবি—এই দ্বৈত অবস্থান সমাজ ও রাজনীতিতে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।
তার ভাষায়, এখন দেখা যাচ্ছে, অনেকে নিজেদের ‘জাতীয় বীর’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছেন, অথচ বাস্তব সংস্কার বা জনস্বার্থের কোনো স্পষ্ট উদ্যোগ নেই।
“জুলাই অভ্যুত্থানে মানুষ কি কোনো দলের স্বার্থে নেমেছিল, নাকি ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য? তাহলে এখন কেন সবাই ‘পয়েন্ট স্কোরিং’ খেলায় মেতে উঠেছে?”
ড. মামুনের এই মন্তব্য ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। কেউ তার অবস্থানকে ‘সাহসী ও যুক্তিনির্ভর’ বলছেন, কেউবা ‘প্রচলিত বয়ান চ্যালেঞ্জের বিপজ্জনক প্রয়াস’ হিসেবে দেখছেন।
খবরওয়ালা/এমএজেড