খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 3শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ১৫ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডা. আসাদুর রহমান নামে একজন চিকিৎসকের ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনায় এলাকায় তীব্র সাড়া ফেলেছে। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। হামলার ঘটনায় শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে মহম্মদপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়, যার মধ্যে ৯ জনকে আসামি করা হয়েছে। এরপর শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মাজহারুল ইসলাম নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যান্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত আছে।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, শুক্রবার দুপুর ১২টা ২ মিনিটের দিকে ১০-১২ জনের একটি দল জরুরি বিভাগে ঢুকে চিকিৎসককে চেয়ার থেকে টেনে তুলে মারধর করে। ফুটেজে কিল-ঘুষি, লাথি ও স্টিক দিয়ে আঘাত করার চেষ্টা স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে।
ডা. আসাদুর রহমান ঘটনার বর্ণনায় জানিয়েছেন, “মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত দুই রোগীকে চিকিৎসা দেওয়ার পর আমি শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত আরেক রোগীকে দেখছিলাম। এ সময় এক ব্যক্তি আমার সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তাকে বাইরে বসতে বলি। কিন্তু তিনি রোগীর চেয়ারে বসে বিরক্তি তৈরি করতে থাকেন। রোগীর চেয়ার ছেড়ে বাইরে বসার অনুরোধ করলে ক্ষুব্ধ হয়ে আমার ওপর হামলা চালান।”
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, আহত রোগী নূর মোহাম্মদ স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আরিফুজ্জামান মিলটনের আত্মীয়, এবং তার বিষয়ে কথা বলার সময় এই অপ্রত্যাশিত ঘটনা সংঘটিত হয়।
মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা কাজী আবু আহসান জানান, “ঘটনার পর থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে এবং চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।”
মাগুরা জেলা শাখা বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে এবং দাবি পূরণ না হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ আশরাফুজ্জামান জানান, “মামলায় ৯ জনকে আসামি করা হয়েছে। শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মাজহারুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।”
| তারিখ ও সময় | ঘটনা বিবরণ |
|---|---|
| ১৩ ফেব্রুয়ারি, ১২:০২ পিএম | ১০-১২ জনের হামলা, সিসিটিভি ফুটেজে দৃশ্যমান |
| ১৩ ফেব্রুয়ারি, রাত | মহম্মদপুর থানায় মামলা দায়ের, ৯ জনকে আসামি করা হয় |
| ১৪ ফেব্রুয়ারি, বিকেল ৪:৩০ | মাজহারুল ইসলাম গ্রেপ্তার, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের অভিযান চলমান |
এই ঘটনায় মাগুরার স্থানীয় সমাজে উত্তেজনা ছড়িয়েছে এবং চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার তাগাদা আবারও প্রমাণিত হলো।