দেশের বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে রোববার সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে লেনদেন স্বাভাবিকভাবে চললেও বিভিন্ন মুদ্রার দামে সামান্য ওঠানামা লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা, মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিস্থিতির পরিবর্তনের প্রভাব বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা বাজারেও পড়ছে। এর ফলে একদিকে যেমন আমদানি ব্যয় ও রপ্তানি আয়ের ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে খোলাবাজার ও ব্যাংকিং চ্যানেলের মধ্যে দামের পার্থক্যও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আজ ইউএস ডলারের গড় বিনিময় হার স্থিতিশীল রয়েছে, যা ১২২ টাকা ৭৫ পয়সায় অপরিবর্তিত আছে। তবে সামগ্রিকভাবে অন্যান্য বেশিরভাগ বৈদেশিক মুদ্রার দর কিছুটা কমেছে। এর মধ্যে ইউরো, ব্রিটিশ পাউন্ড, চীনা ইউয়ান, অস্ট্রেলিয়ান ডলার, ভারতীয় রুপি এবং সিঙ্গাপুর ডলারের দর নিম্নমুখী দেখা গেছে। অপরদিকে জাপানি ইয়েনের দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বৈদেশিক মুদ্রার এই ধরনের ওঠানামা মূলত বৈশ্বিক চাহিদা ও সরবরাহ পরিস্থিতির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। বিশেষ করে জ্বালানি তেলের দাম, আন্তর্জাতিক সুদের হার এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধীরগতির কারণে মুদ্রাবাজারে চাপ তৈরি হচ্ছে। বাংলাদেশে আমদানি নির্ভরতার কারণে ডলারের চাহিদা সবসময়ই বেশি থাকে, যা বিনিময় হারের ওপর প্রভাব ফেলে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত দরের তুলনায় খোলাবাজারে সাধারণত কিছুটা বেশি দামে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন হয়। ফলে সাধারণ আমদানিকারক, প্রবাসী আয় গ্রহণকারী পরিবার এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে আলাদা চাপের মুখে পড়তে হয়। একই সঙ্গে বিনিময় হারের পরিবর্তন দেশের সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিতেও প্রভাব ফেলে, বিশেষ করে আমদানি করা পণ্যের ক্ষেত্রে।
আজকের মুদ্রাবাজারের প্রধান বিনিময় হার নিচে তুলে ধরা হলো—
মুদ্রা
বাংলাদেশি টাকা
ইউএস ডলার
১২২ টাকা ৭৫ পয়সা
ইউরো
১৪২ টাকা ৩২ পয়সা
ব্রিটিশ পাউন্ড
১৬৪ টাকা ৬৮ পয়সা
ভারতীয় রুপি
১ টাকা ২৮ পয়সা
মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত
৩০ টাকা ৪৮ পয়সা
সিঙ্গাপুর ডলার
৯৫ টাকা ৫৮ পয়সা
সৌদি রিয়াল
৩২ টাকা ৭০ পয়সা
কুয়েতি দিনার
৩৯৬ টাকা ৯৩ পয়সা
অস্ট্রেলিয়ান ডলার
৮৭ টাকা ৪৯ পয়সা
জাপানি ইয়েন
অপরিবর্তিত
অর্থনীতিবিদদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ডলারের দামে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা দেখা গেলেও অন্যান্য মুদ্রার ক্ষেত্রে ওঠানামা অব্যাহত রয়েছে। এতে বৈদেশিক বাণিজ্য পরিকল্পনায় কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে বলে জানা গেছে।
উল্লেখযোগ্য যে, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার যে কোনো সময় পরিবর্তিত হতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি, রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং আমদানি চাহিদার ওপর ভিত্তি করে এই হার প্রতিনিয়ত সমন্বয় করা হয়, যা দেশের অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।