খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 8শে বৈশাখ ১৪৩৩ | ২১ই এপ্রিল ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া নাদিয়া পাঠান পাপনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। বিজয়নগর উপজেলার এই নারী নেত্রী একসময় আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন হিসেবে উল্লেখিত) স্থানীয় এক শীর্ষ নেতার কন্যা হওয়ায় বিষয়টি আরও বেশি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। মনোনয়ন ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিনন্দন ও সমালোচনা—দুই ধরনের প্রতিক্রিয়াই দেখা গেছে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে সংরক্ষিত নারী আসনের ৩৬ জন মনোনীত প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করা হয়। ওই তালিকায় ৩২ নম্বর অবস্থানে রয়েছে নাদিয়া পাঠান পাপনের নাম। মনোনয়ন ঘোষণার পরপরই বিষয়টি রাজনৈতিক মহল ও স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
নাদিয়া পাঠান পাপন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার চান্দুরা গ্রামের মরহুম আনোয়ার হোসেন এবং সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য ও বিজয়নগর উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি সৈয়দা নাখলু আক্তারের কন্যা। পারিবারিকভাবে তিনি একটি রাজনৈতিক পরিবেশে বেড়ে ওঠেন, যেখানে তার মা দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সংগঠনিক পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।
নাদিয়া বিজয়নগরের দাউদপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং কাজী মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। পরে তিনি ঢাকার বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন।
রাজনৈতিক সূত্র অনুযায়ী, তিনি ২০০০ সাল থেকে ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। প্রথমদিকে চান্দুরা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সদস্য হিসেবে তার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীতে বদরুন্নেসা কলেজে অধ্যয়নকালে তিনি ছাত্রদলের সংগঠনিক কার্যক্রমে যুক্ত হন এবং সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। পরে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় পর্যায়েও তিনি সক্রিয় ছিলেন।
বর্তমানে তিনি বিএনপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন এবং একাধিকবার পুলিশি অভিযান, লাঠিচার্জ ও মামলার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন।
মনোনয়ন ঘোষণার পর স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর মৃধা ফেসবুক পোস্টে বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি লেখেন, রাজনৈতিক বাস্তবতায় “শেষ কথা বলে কিছু নেই” উল্লেখ করে নাদিয়ার রাজনৈতিক অবস্থান ও পারিবারিক পরিচয়ের বৈপরীত্য তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি বিজয়নগর থেকে তিনজন সংসদ সদস্য থাকার বিষয়টিও উল্লেখ করেন।
এদিকে স্থানীয় পর্যায়ে অনেকেই নাদিয়ার মনোনয়নকে রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে গিয়ে ব্যক্তিগত অর্জন হিসেবে দেখছেন। তারা সামাজিক মাধ্যমে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| নাম | নাদিয়া পাঠান পাপন |
| মনোনয়ন | বিএনপি, সংরক্ষিত নারী আসন |
| তালিকায় অবস্থান | ৩২ নম্বর |
| পিতা | আনোয়ার হোসেন (মরহুম) |
| মাতা | সৈয়দা নাখলু আক্তার (সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা) |
| শিক্ষাগত যোগ্যতা | এসএসসি, এইচএসসি, স্নাতক (বদরুন্নেসা কলেজ) |
| রাজনৈতিক শুরু | ছাত্রদল (২০০০ সাল) |
| বর্তমান পদ | বিএনপি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার সদস্য |
মনোনয়ন নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে নাদিয়া বলেন, বিগত ১৭ বছর রাজনৈতিক আন্দোলনে সক্রিয় থাকার সময় তিনি একাধিক মামলা, গ্রেপ্তার ও হামলার মুখোমুখি হয়েছেন। তার মতে, রাজনৈতিক পরিচয় নয়, বরং যোগ্যতা ও মাঠের অভিজ্ঞতাই তাকে মনোনয়ন দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “এখন বিতর্ক নয়, কাজের সময়। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৩১ দফা বাস্তবায়নে কাজ করাই আমার মূল লক্ষ্য।”
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের মনোনয়ন রাজনৈতিক বাস্তবতার পরিবর্তনশীল রূপকে নির্দেশ করে, যেখানে পারিবারিক পরিচয়ের চেয়ে ব্যক্তিগত রাজনৈতিক অবস্থান ও সক্রিয়তা বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে একই সঙ্গে এটি দলীয় রাজনীতিতে নতুন আলোচনারও জন্ম দিয়েছে।
সব মিলিয়ে, নাদিয়া পাঠান পাপনের মনোনয়ন শুধু একটি ব্যক্তিগত রাজনৈতিক অর্জন নয়, বরং স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে পরিচয়, অবস্থান ও দলীয় সমীকরণের একটি নতুন বিতর্কও তৈরি করেছে