খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৮ আগস্ট ২০২৫
বাংলাদেশ নারী জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক নিগার সুলতানার একটি ফেসবুক পোস্ট ঘিরে শুরু হয়েছে আলোচনা ও রহস্যের জট। শুক্রবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া একটি পোস্টে তিনি লেখেন, ‘ক্রিকেটার এবং নারী ক্রিকেটারের মধ্যে পার্থক্য আছে, বন্ধু’।
পোস্টটির শেষে তিনি একটি ‘বিজয়’ চিহ্নও যোগ করেন।
পুরুষ ও নারী ক্রিকেটারদের মধ্যে বৈষম্যের প্রসঙ্গ বাংলাদেশ ক্রিকেটে নতুন নয়। বেতন, সুযোগ-সুবিধা, কাঠামোগত স্বীকৃতি—সবক্ষেত্রেই পিছিয়ে রয়েছেন নারী খেলোয়াড়েরা। তবে নিগারের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পেছনে নির্দিষ্ট কোনো ঘটনা বা অভিজ্ঞতা কাজ করেছে কি না, তা এখনো পরিষ্কার নয়।
এ নিয়ে একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা উঠে এসেছে—সম্প্রতি ক্রিকেটারদের সংগঠন ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব) এর কার্যক্রমে নারী ক্রিকেটারদের অন্তর্ভুক্ত না করাকে কেন্দ্র করেই এই ক্ষোভ।
গত এক মাস ধরে কোয়াব ছিল দেশের ক্রিকেটের আলোচনার কেন্দ্রে। সংগঠনটির আসন্ন নির্বাচন নিয়ে একাধিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। চূড়ান্ত হয়েছে ভোটার তালিকা ও নির্বাচনের সময়সূচি। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে—সেসব প্রক্রিয়ায় কোথায় নারী ক্রিকেটাররা?
সভাগুলোয় কোনো নারী ক্রিকেটারকে দেখা যায়নি। ফলে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি—নারীরা কি কোয়াবের সদস্য নন? তারা কি ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন না?
এই বিষয়ে কোয়াবের আহ্বায়ক সেলিম শাহেদ গণমাধ্যমকে বলেন,
“আমি এখন পর্যন্ত কোনো সভায় কোনো নারী ক্রিকেটারকে পাইনি। কোনো মহিলা ক্রিকেটারকে আমি মিটিংয়ে আসতে দেখিনি। এখন পর্যন্ত কোনো পজিটিভ ফিডব্যাকও পাইনি।”
নারী ক্রিকেটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা হয়েছিল কি না—এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান,
“আমি তাদের সাথে কথা বলিনি। তবে দুজন নারী আম্পায়ার আছে, তারা নিশ্চয়ই যোগাযোগ করেছে।”
নিগার সুলতানার পোস্ট এই প্রেক্ষাপটেই দেখা হচ্ছে। যদিও তিনি সরাসরি কোয়াবের নাম উল্লেখ করেননি, তার বক্তব্যের মধ্যে রয়েছে একটি সুস্পষ্ট বার্তা—নারী ক্রিকেটারদেরকে এখনও ‘ক্রিকেটার’ হিসেবে সমান মর্যাদা দেওয়া হয় না।
খবরওয়ালা/এমএজেড