খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ‘কালো মানিক’ নামের একটি গরু উপহার দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে আলোচনায় আসা পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা সোহাগ মৃধাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ রবিবার (১৪ জুন, ২০২৬) মির্জাগঞ্জ থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুজ্জামান গণমাধ্যমকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গ্রেপ্তারকৃত সোহাগ মৃধা পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলার উত্তর ঝাটিবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা।
মির্জাগঞ্জ থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোহাগ মৃধার বিরুদ্ধে দুটি সুনির্দিষ্ট মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি মারামারি এবং অপরটি পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলা। মারামারির মামলাটিতে তিনি এজাহারভুক্ত এক নম্বর প্রধান আসামি এবং পর্নোগ্রাফি আইনের মামলায় তাকে সহযোগী আসামি হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এই দুটি মামলায় ওয়ারেন্ট বা সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ তাকে উত্তর ঝাটিবুনিয়া গ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে ও জুডিশিয়াল রিমান্ডে থাকায় এই গ্রেপ্তারের বিষয়ে সোহাগ মৃধা বা তার পরিবারের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা আইনি প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
| বিষয় | তথ্য ও বিবরণ |
| আসামির নাম | সোহাগ মৃধা |
| আবাসিক ঠিকানা | উত্তর ঝাটিবুনিয়া গ্রাম, মির্জাগঞ্জ উপজেলা, পটুয়াখালী |
| গ্রেপ্তারের তারিখ | ১৪ জুন, ২০২৬ (রবিবার) |
| সংশ্লিষ্ট থানা | মির্জাগঞ্জ থানা, পটুয়াখালী জেলা |
| মামলার সংখ্যা | ২টি |
| মামলাসমূহের ধরন |
১. মারামারি মামলা (১ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি) ২. পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন মামলা (সহযোগী আসামি) |
| বর্তমান আইনি অবস্থা | আদালতের নির্দেশে কারাগারে প্রেরিত |
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট থেকে জানা যায়, গত বছর পবিত্র ঈদুল আজহার সময় সোহাগ মৃধা তার পালিত ‘কালো মানিক’ নামের একটি উন্নত জাতের গরু বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে উপহার হিসেবে দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে আলোচনায় এসেছিলেন। পরবর্তীতে বিএনপি চেয়ারপারসন উপহারের বিষয়টি জানতে পেরে সোহাগের আন্তরিকতার প্রশংসা করেন। তবে সোহাগের পরিবারের আর্থিক সক্ষমতা ও স্বচ্ছলতার কথা বিবেচনা করে বেগম খালেদা জিয়া উপহারটি গ্রহণ করার পর তা পুনরায় সোহাগের পরিবারকেই ফেরত দেন এবং এটি বিক্রি করে পরিবারের কল্যাণে ব্যয়ের পরামর্শ দেন।
বেগম খালেদা জিয়ার কাছ থেকে ফেরত পাওয়ার পর সোহাগ মৃধা চলতি বছরের পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে গরুটি স্থানীয় পশুর হাটে বিক্রি করে দেন। এই উপহার সংক্রান্ত ঘটনার পর থেকে স্থানীয়ভাবে সোহাগ মৃধা বেশ পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। তবে পশুর হাটে ‘কালো মানিক’ বিক্রি সম্পন্ন করার কিছুদিন পরই তার বিরুদ্ধে পুরোনো ও চলমান মামলাগুলোর প্রেক্ষিতে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে স্থানীয় প্রশাসন।
মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুজ্জামান আজ দুপুরে ব্রিফিংয়ে জানান, সোহাগ মৃধার বিরুদ্ধে পূর্ব দায়েরকৃত মারামারি এবং পর্নোগ্রাফি আইনের মামলায় নিয়মিত তদন্তের অংশ হিসেবে এই গ্রেপ্তার অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। আজ রবিবার বেলা ৩টার দিকে তাকে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে পটুয়াখালী জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ প্রদান করেন। পুলিশ জানিয়েছে, আইন অনুযায়ী মামলার পরবর্তী কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।