খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১ জুলাই ২০২৫
গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। মঙ্গলবার (১ জুলাই) বিকেলে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিএনপির আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের শোক ও বিজয়ের প্রথম বর্ষপূর্তি’ উপলক্ষে বিশেষ আলোচনা সভায় তিনি গুলশানের বাসভবন ফিরোজা থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন।
বক্তব্যে খালেদা জিয়া বলেন, ‘আমাদের সামনে যে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, তা কাজে লাগিয়ে নতুন করে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। সর্বোপরি, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে হবে। কোনোভাবেই বীরের এই রক্তস্রোত, মায়ের অশ্রুধারা যেন বৃথা না যায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। ঐক্য বজায় রাখতে হবে। আসুন আমরা সবাই মিলে শহীদ জিয়ার স্বপ্ন ও কোটি মানুষের নতুন বাংলাদেশের নির্মাণের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করি।’
তিনি আরও বলেন, ‘রক্তস্নাত জুলাই-আগস্ট এক বছর পর আমাদের মাঝে ফিরে এসেছে। দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে ফ্যাসিস্টদের নির্মম নির্যাতন, গ্রেপ্তার, খুনের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করা হয়েছে। একদলীয় শাসনব্যবস্থা চিরস্থায়ী করতে চেয়েছে আওয়ামী শাসকগোষ্ঠী। ছাত্র-জনতার সম্মিলিত অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সেই ফ্যাসিবাদের পতন ঘটেছে। এখন সুযোগ এসেছে নতুন করে বাংলাদেশ গড়ার।’
জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে নিহতদের স্মরণ করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘এই আত্মত্যাগ জাতি চিরকাল মনে রাখবে। গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকারদের তালিকা তৈরি করতে হবে, দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে এবং তাদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিতে হবে। প্রতিটি পরিবারকে সম্মান ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা এবং একটি নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হবে।’
বিকেল ৩টায় আয়োজিত এই বিশেষ অনুষ্ঠানটি শুরু হয় ‘গণঅভ্যুত্থান ২০২৪: জাতীয় ঐক্য ও গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা’ শীর্ষক একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে। অনুষ্ঠানের শুরুতে বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, যিনি যুক্ত হন ভার্চুয়ালি।
এরপর বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা বক্তব্য রাখেন। প্রধান অতিথি হিসেবে খালেদা জিয়া রাত ৭টা ৫০ মিনিটে বক্তব্য দেন।
দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই আয়োজন ছিল শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা, গণতান্ত্রিক সংগ্রামের চেতনা সংহতকরণ এবং আগামীর আন্দোলনের কৌশল নির্ধারণের এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
খবরওয়ালা/আরডি