খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 5শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩২ | ১৯ই মে ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় উত্তরণের জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো উপেক্ষা করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তাঁর মতে, এর মাধ্যমে দেশ এক ধরনের অনিশ্চয়তার দিকে এগোচ্ছে। এমন বাস্তবতায় বাজেট বা অর্থনৈতিক নীতি কার্যকর হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সোমবার (১৯ মে) রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে ‘নীতি সংস্কার ও আগামীর জাতীয় বাজেট’ শীর্ষক এক সংলাপে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন সাবেক এই বাণিজ্যমন্ত্রী। নাগরিক প্ল্যাটফর্মের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আনিসুজ্জামান চৌধুরী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডি’র সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।
সংলাপে আমীর খসরু বলেন, ‘বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক রূপান্তরের পথে নিতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। আগামীতে কী হবে, এই সরকার কত দিন থাকবে, নির্বাচন কবে হবে—এই সব প্রশ্নের উত্তর জনগণের জানা নেই। আমরা কোথায় যাচ্ছি, সেটি অনিশ্চিত।’
তিনি বলেন, ‘এমন এক সময় বাজেট তৈরি হচ্ছে, যখন জিডিপি প্রশ্নবিদ্ধ। এই বাজেট আগের ফ্যাসিস্ট সরকারের ধারাবাহিকতা ছাড়া আর কিছু নয়। এখানে বাস্তবতা ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।’
মিয়ানমারের সঙ্গে মানবিক করিডর চালুর প্রসঙ্গে আমীর খসরু বলেন, ‘এটি একটি স্পর্শকাতর রাজনৈতিক বিষয়। অথচ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা না করেই সরকার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘গত ১৪–১৫ বছর ধরে জনগণ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন করে আসছে। অথচ এখন অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচন বাদে বাকি সব কাজ করছে।’
ব্যবসা–বাণিজ্যে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণের সমালোচনা করে বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে নিয়ন্ত্রণ অনেক বেশি। অতীতেও নিয়ন্ত্রণের সুযোগে লুটপাট হয়েছে। নিয়ন্ত্রণ বাড়লে দুর্নীতিও বাড়বে। আমাদের এখান থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।’
আগামী দিনের অর্থনৈতিক কাঠামোর বিষয়ে দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমরা একটি উন্মুক্ত ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ চাই—‘উই আর ওপেন ফর বিজনেস’ হওয়া উচিত আগামী দিনের অর্থনৈতিক মডেল।’
দলীয় দ্বন্দ্ব ও সংঘাতমূলক রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে আমীর খসরু বলেন, ‘রাজনৈতিক সহনশীলতা জরুরি। দ্বিমত থাকা স্বাভাবিক, তবে অন্য পথের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে। রাজনৈতিক পরিবর্তন ছাড়া অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়।’
খবরওয়ালা/এন