খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 8শে আশ্বিন ১৪৩২ | ২৩ই সেপ্টেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
গাজার স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ইসরায়েলি সেনারা পুরোনো ট্যাঙ্ক বা সাঁজোয়া যানকে বিশাল আকারের মোবাইল বোমায় রূপান্তর করছে। এসব যানবাহন বিস্ফোরকে ভরে আবাসিক এলাকায় নিয়ে গিয়ে রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। মুহূর্তেই ভবন ধসে পড়ে, আশপাশে থাকা মানুষ ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা একে ‘বিমান হামলার চেয়েও ভয়াবহ’ বলে বর্ণনা করছেন।
গাজার বাসিন্দা আলম আল-ঘৌল বলেন, এ ধরনের অস্ত্র তারা আগে কখনও দেখেননি। কয়েক মিনিটের মধ্যেই লক্ষ্যবস্তু এলাকায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে, চারপাশ রক্তবর্ণ হয়ে যায়। অনেক সময় মৃতদেহেরও কোনো চিহ্ন পাওয়া যায় না। ঘরবাড়ি ধসে পড়ে পরিবারগুলো নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, একটি বিস্ফোরণেই ৩০০–৫০০ বর্গমিটার এলাকা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।
হামাস পরিচালিত গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, ১৩ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া স্থল অভিযানে শুধু এই অস্ত্র দিয়েই এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং ছয় হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। বিস্ফোরক রোবট ব্যবহারের পাশাপাশি বিমান হামলাও চলছে, যার ফলে ব্যাপক বাস্তুচ্যুতি ঘটেছে। ইসরায়েলি গণমাধ্যম দাবি করছে, এ বিস্ফোরণের শক্তি এতটাই তীব্র যে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরের তেল আবিবেও তা অনুভূত হয়।
এ বিষয়ে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল আভিচায় আদরাই সরাসরি কোনো মন্তব্য না করলেও বলেন, তারা হামাসকে নির্মূল করতে এবং নিজেদের নাগরিক ও সৈন্যদের সুরক্ষায় নতুন নতুন কৌশল প্রয়োগ করছে।
তবে গাজার অনেক বাসিন্দা বলছেন, এই অস্ত্র আসলে ভীতি ও ধ্বংসযজ্ঞ বাড়ানোর উপায়। নিদাল ফাওজি নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, বিস্ফোরণের আগে মানুষ কেবল পালানোর কথা ভাবছিল। বিস্ফোরণের চাপে ১০০ মিটার দূরেও মানুষ মারা গিয়েছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক হানি আল-বাসৌসের মতে, ইসরায়েলি সেনারা নিজেদের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে ও সরাসরি সংঘর্ষ এড়াতে এসব রিমোট–নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরক যান ব্যবহার করছে। এগুলো দিয়ে টানেল, আবাসিক ভবন ও জনবহুল এলাকা ধ্বংস করা হচ্ছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক ড. মুনির আল-বুরশ সতর্ক করে বলেছেন, প্রতিটি রোবট সাত টন পর্যন্ত বিস্ফোরক বহন করতে সক্ষম। প্রতিদিন সাত থেকে দশটি বিস্ফোরণ ঘটানো হচ্ছে। এর ফলে গণহত্যার ঝুঁকি বাড়ছে এবং গাজার মানবিক বিপর্যয় ভয়াবহ আকার ধারণ করছে।
বর্তমান পরিস্থিতির কারণে এ অস্ত্রের কোনো সরাসরি ছবি পাওয়া সম্ভব হয়নি। প্রতিবেদনে ব্যবহার করা হয়েছে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার পর তোলা গাজার সাধারণ ধ্বংসস্তূপের দৃশ্য।
খবরওয়ালা/এমএজেড